জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙা
শনিবার স্বাধীনতা দিবসে রাজ্যপালের ডাকে রাজভবনে হাজির থাকবেন মাথাভাঙার মৎস প্রেমী লক্ষ্মীকান্ত বর্মন। সারা উত্তরবঙ্গ তাঁকে চেনেন মৎস পাগল মানুষ হিসেবেই।
মাছের প্রতি ভালোবাসা আর অভিনব উদ্যোগের স্বীকৃতি দিতে স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজভবনে রাজ্যপালের আমন্ত্রণ পেয়েছেন মৎস প্রেমী লক্ষ্মীকান্ত বর্মন।
মাছ চাষ ও মৎসপ্রেমের এই অনন্য পথচলা এবার তাঁকে পৌঁছে দিল রাজভবনের দরবারে!
১৫৬ প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করে রেখেছেন মানুষটি।নিজের বাড়িতে। অবশ্য বাড়ি না বলে একে মাছের গবেষণাগার বলাই ভালো।
কেন এই ভাবনা? মাছ পাগল লক্ষ্মীকান্ত বর্মনের বক্তব্য, প্রাকৃতিক নিয়মে অনেক মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামবাংলার নদী খালবিলের জলে চাষের জমির কীটনাশক ওষুধ মিশে মাছের প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মাছ সংগ্রহ করে জারে সংরক্ষণ করছেন তিনি।
তাঁর আশা ভবিষৎয়ে মাছের ইতিবৃত্তান্ত নিয়ে যারা গবেষণা কিংবা নতুন প্রজন্ম যারা গ্রাম বাংলার অতীতের মাছ চিনবে তারা বাবা-মায়ের হাত ধরে আসবে এই বাড়িতে। বাড়িটাই হবে মাছ চেনার বিশ্ববিদ্যালয়।
লক্ষ্মীকান্ত বর্মনের বক্তব্য, আজকাল শহরের মানুষেরা বাজার থেকে মাছ কিনে কেটেকুটে বাড়িতে নিয়ে আসে।সে মা হোক বা রান্না করার লোকেরা হোক রান্না করে একবারে টেবিলে সার্ভ করে। ফলে শুধু বাচ্চারা নয় মায়েরাও সব মাছ চেনে না। বড় জোর চেনে রুই, কাতলা, ইলিশ, ট্যাংরা, পুঁটি সহ গুটিকতক মাছ।
আবার এদের অনেকেই জানে না কোন মাছের প্রিপারেশন কি হওয়া উচিত। ফলে হোটেল, রেস্তোরায় গিয়ে রসনা তৃপ্তি করে। শুধু মাছ সংরক্ষণ নয়, মাছের রান্নার প্রিপারেশনও লিখে রাখছেন তিনি।
কৃযক পরিবারের ছেলে লক্ষ্মীকান্ত বর্মন চাষের পাশাপাশি মাছের চাষ করতে শুরু করেছিলেন প্রথম দিকে। তিনি উত্তরবঙ্গের একজন সফল মাছ চাষীও।বিশেষ করে ডিম থেকে মাছের পোনা তৈরিতেও তিনি নামডাক করে ফেলেছেন রাজ্যজুড়ে। রাজ্যের মৎস বিজ্ঞানীরাও একবারেই চেনেন ওনাকে। বিভিন্ন দপ্তর থেকে মানপত্রও পেয়েছেন। তাঁর ঝুলিতে আছে মৎস দপ্তরের পুরষ্কারও।
মাছ চাষ করতে করতেই মনে হয়েছিল হারিয়ে যাওয়া মাছের প্রজাতিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের কথা মাথায় আসে প্রায় ২০ বছর আগে। এতদিনের সেই প্রয়াসের কথা বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে পৌঁছে গেছে রাজ্যপাল ভবনেও। সেখানেই স্বাধীনতা দিবসের দিনে রাজ্যপাল তাঁকে দেবেন সম্মাননা। কলকাতা রওনা হবার আগে মৎসপ্রেমী মানুষটা জানিয়ে গেছেন, যতদিন বাঁঁচবো ততদিন আমার সাধনা চলবে।
Comments :0