Mongpong Leopard

কতটা সুরক্ষিত বন? মংপংয়ের রাস্তায় কালো শাবক সহ চিতাবাঘ

জেলা

ডুয়ার্সের মংপংয়ের রাস্তায় দুই শাবক সহ চিতা বাঘ। শাবক দু’টির একটির রঙ কালো। ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট।

হঠাৎ পাহাড়ি রাস্তার উপর দেখা মিলল চিতাবাঘ ও তার শাবকের। মংপং সংলগ্ন এলাকায় পর্যটকদের মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই বিরল দৃশ্য। 
তবে পরিবেশপ্রেমীদের উদ্বেগের জায়গা অন্যত্র। পাহাড় কেটে রাস্তা, টানেল, নির্মাণকাজ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর ক্রমবর্ধমান বিস্তারে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র ও চলাচলের পথ কতটা অক্ষত থাকছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বনভূমি খণ্ডিত হলে প্রাণীদের চলাচলের পথ বদলে যেতে পারে। তবে মংপংয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাটি কোনও নির্দিষ্ট রাস্তা বা টানেল নির্মাণের কারণেই ঘটেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ এখনও নেই। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যামেরা ট্র্যাপ ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
শাবকটির গায়ের রং কালো হওয়ায় সেটি ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ বা মেলানিস্টিক চিতাবাঘের শাবক কি না, তা নিয়েও আলোচনা জোরালো। ছবি বা ভিডিও দেখে যদিও নিশ্চিত করা যায়নি। বন দপ্তরের বিশেষজ্ঞরা দেখার বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
মংপং, কালিম্পং ও দার্জিলিং সংলগ্ন পাহাড়ি বনাঞ্চলে চিতাবাঘের পাশাপাশি হিমালয়ান কালো ভাল্লুক, গোরাল, সেরো, সাম্বার, বুনো শুয়োর, লেপার্ড ক্যাট-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী রয়েছে। পাহাড়ি রাস্তা বা লোকালয়ের কাছাকাছি চিতাবাঘের দেখা পাওয়ার ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বন, চা-বাগান ও মানুষের বসতি পাশাপাশি থাকা এলাকায় চিতাবাঘের চলাচল অস্বাভাবিক নয়।
পরিবেশকর্মীদের বক্তব্য, উন্নয়ন থামানো নয়, বরং প্রকৃতি ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রয়োজন। বন্যপ্রাণির করিডর চিহ্নিত করে নির্মাণকাজের পরিকল্পনা করা জরুরি। একইসঙ্গে পর্যটকদেরও সতর্ক থাকতে হবে। বন্যপ্রাণী দেখলে গাড়ি থামিয়ে ভিড় করা, হর্ন বাজানো, তাড়া করা বা খুব কাছে গিয়ে ছবি তোলা বিপজ্জনক। মংপংয়ের এই ঘটনা তাই শুধু রোমাঞ্চকর পর্যটন অভিজ্ঞতা নয়, পাহাড়ের পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

Comments :0

Login to leave a comment