MONDA MITHAI | SPORTS FIELDS | KASHAYP CHATTAPADHAYA | NATUNPATA | 4th YEAR | 21 JUNE 2026

মণ্ডা মিঠাই | চাই পরিকাঠামো, চাই পরিবেশ- তবেই আসবে সাফল্য | কাশ্যপ চট্টোপাধ্যায় | নতুনপাতা | ৪র্থ বর্ষ | ২১ জুন ২০২৬

নতুনপাতা/মুক্তধারা

MONDA MITHAI  SPORTS FIELDS  KASHAYP CHATTAPADHAYA  NATUNPATA  4th YEAR  21 JUNE 2026

মণ্ডা মিঠাই | চাই পরিকাঠামো,  চাই পরিবেশ- তবেই আসবে  সাফল্য

                     কাশ্যপ চট্টোপাধ্যায় 

নতুনপাতা | ৪র্থ বর্ষ | ২১ জুন ২০২৬

অলিম্পিক হোক কিংবা এশিয়ান গেমস- ক্রীড়া ক্ষেত্রে‌ সাম্প্রতিক অতীতে চোখ ধাঁধানো সাফল্য অর্জন করে চলে যে সমস্ত দেশ তাদের অনেকগুলি সাম্যবাদী অর্থনীতির দ্বারা পরিচালিত। প্রশ্ন উঠতে পারে কি ভাবে ২০২৪ সালে শেষ অলিম্পিকে প্যারিসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় টপকে গিয়েছিল চীন?  কিভাবে উত্তর কোরিয়ার মেয়েরা ফুটবল বিশ্বে নিজেদের স্থান অধিকার করছে? কিভাবে বক্সিং এবং কুস্তিতে বছরের পর বছর ধরে কিউবা তার প্রাধান্য বজায় রাখছে? আর এরই পাশাপাশি সাবেক কমিউনিস্ট দেশ গুলি সাফল্য অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশগুলির থেকে বেশ কয়েক কদম এগিয়ে এ নিয়েও কোন সন্দেহ নেই। কেন? 
এর জবাব একটাই। পরিকাঠামো এবং পরিবেশ। ‌ এই সমস্ত দেশগুলির ক্রীড়া পরিকাঠামোর দিকে তাকালে দেখা যাবে একেবারে শৈশব থেকে ছেলেমেয়েদেরকে নির্বাচন করা হয় বিশেষ বিশেষ খেলাধুলার জন্য। এরপর লেখাপড়াকে কম প্রাধান্য দিয়ে খেলাধুলাকে গুরুত্ব দিয়ে শুরু হয় প্রশিক্ষণ।‌ সে প্রশিক্ষণের জন্য এই প্রত্যেকটি দেশেই রয়েছে পৃথক ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ‌ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে প্রতিনিয়ত উন্নত মানের প্রশিক্ষকদের নির্দেশে উপযুক্ত খাদ্যের ব্যবস্থা করে সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়াবিদদেরকে তৈরি করা হয়। চলতে থাকে বিভিন্ন বয়সের প্রতিযোগিতা। অনূর্ধ্ব নয় অনূর্ধ্ব ১৪ অনূর্ধ্ব ১৫ অনূর্ধ্ব ১৯ বিভিন্ন বিভাগে প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতার মধ্যে থেকেই নির্বাচন করে নেওয়া হয় সেরা ক্রীড়াবিদদের।‌ এরপর? আন্তর্জাতিক পরিকাঠামোর সঙ্গে তাদের পরিচয় করানো হয়। এরপরেস্তরে আসে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ।‌ তবেই মেলে সাফল্য। 
এর পিছনে রয়েছে একটি সুনিদৃষ্ট অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিচালিত পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনাকে সফল বাস্তবায়নটাও অত্যন্ত জরুরি যদি পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের মধ্যে ভারসাম্য সুনিদৃষ্টভাবে অর্জন করা যায় তবেই কিন্তু এই জাতীয় চোখ ধাঁধানো সাফল্য অর্জন করা যেতে পারে। ‌ অর্জন করা যেতে পারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

কেবলমাত্র বছরের একটা নির্দিষ্ট দিনে ক্রিয়া দিবস পালন কিম্বা যোগ দিবস উদযাপনের মধ্যে দিয়ে এই সাফল্য অর্জিত হওয়া সম্ভবপর নয়। এতে হুজুগ হয়, একদিনের জন্য অনেক ক্রীড়াবিদ তৈরি হয়, কিন্তু ক্রীড়া ক্ষেত্রে দেশকে নিজস্ব মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। এ সত্য অনুধাবন না করতে পারলে ক্রীড়া চর্চা হুজুগেই থেকে যাবে।  পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। ‌ পাড়ায় পাড়ায় তাদের পতাকা এবং সেই সব দলের নায়কদের ছবি দিয়ে জনমানুষে উন্মাদনা তৈরি হবে। কিন্তু বিশ্বকাপ খেলবার যোগ্যতা অর্জনের লড়াইয়ে দেশ বারবার পিছিয়ে পড়বে। 
অতএব, হুজুগ নয়। চাই সঠিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালিত পরিকল্পনা এবং তার রূপায়ণ।

Comments :0

Login to leave a comment