বারুইপুরের সূর্যপুরের ধর্ষণ-খুনে প্রতিবাদী সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলিকে ৮ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল বারুইপুর আদালত। পুলিশ ১৪ দিন হেপাজতের আবেদন জানায়। বিচারক নীলাঞ্জন মল্লিক তাঁকে ৮ দিন পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
এই মামলার শুনানির সময় লাহেক আলির পক্ষে আইনজীবী রানা গাঙ্গুলি তাঁর জামিনের আবেদন জানান। তিনি বলেন, লাহেক আলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে চক্রান্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় বারুইপুর থানায় ৪টে এফআইআর করা হয়েছে।
লাহেক আলিকে পুলিশ রবিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। আইনজীবী আদালতে প্রশ্ন তুলে বলেন, একই ঘটনায় একাধিক মামলা কি করে হয়। এবিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের রায় আদালতে তুলে ধরলে আদালত গ্রহণ করে।
এদিকে আদালতে শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী ও এই মামলার অভিযোগকারীর পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, এখন ‘প্রিলিমিনারি স্টেজ’। তদন্ত চলুক। ধৃতকে পুলিশি হেপাজতে দেওয়া হোক। বারবার তাঁরা বিপক্ষের আইনজীবীদের কথা বলতে বাধা দেন। বিচারক শুনানির শেষে রায়দান স্থগিত রাখেন। এরপর উভয় আইনজীবীরা আদালত কক্ষ থেকে বেড়িয়ে যান।
রানা গাঙ্গুলি এদিন অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, একই ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪টে মামলা হয়েছে। একটি পকসো, এর বাইরে রয়েছে ‘মব লিঞ্চিং’, খুন, পুলিশকে মারধরের অভিযোগ। তিনি বলেছেন, একই ঘটনায় একাধিক এফআইআর হয় না। তিনি বলেছেন যে মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হচ্ছে লাহেক আলির ওপর।
গত ৪ জুলাই রাতে সূর্যপুরে নাবালিকাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশকে জানায় পরিবার। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয়রাই দল বেঁধে খুঁজতে নামেন। সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করেন। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে উদ্ধার করেন নাবালিকার দেহ। ক্ষোভের জেরে একজনকে ঘিরে ধরে মারধর করা হলে মৃত্যু হয়। উত্তেজনাও তীব্র হয়।
সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলি বিধানসভায় প্রার্থীও ছিলেন। পরিস্থিতি জানতে পেরে এলাকায় যান। তাঁর আইনজীবীরা এদিন বলেছেন যে ভিডিও-তে দেখা গিয়েছে তিনি জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। লাহেক আলির আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথায় মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লাহেকের আইনজীবীরা জানান যে ১০ জুলাই হাইকোর্টে একটি মামলা করেছিলেন তিনি। ১১ জুলাই তার কপি বারুইপুর থানায় এসে পৌঁছায়। ঠিক তার পরেরদিন, ১২ তারিখ কোনও একজন ব্যক্তিকে দিয়ে অভিযোগ করিয়ে লাহেককে আটক করা হয়। তাঁরা বলেন, তদন্তের নাম প্রহসন চলেছে।
আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জি এবং রানা গাঙ্গুলি সংবাদমাধ্যমেও বলেন যে প্রতিবাদী হয়ে নির্যাতিতার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন লাহেক আলি। সেটা দোষের? সঠিক সময় যদি পুলিশ সঠিক ভূমিকা পালন করতো তাহলে হয়ত ওই নাবালিকাকে ধর্ষিতা হয়ে খুন হতে হতো না। লাহেকের বিরুদ্ধে ২৭ টি মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি’র যে নেতার নাম বারবার সামনে এসেছে তাঁকে পুলিশ কি তদন্তের আওতায় রেখেছে?
উল্লেখ্য, এই বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডলের সঙ্গে মামলায় এক অভিযুক্তকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে। শান্তনু মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তকে ছাড়ানোর। কিন্তু তিনি এখন কোথায় পুলিশ তার হদিস দেয়নি।
লাহেক আলির বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় কেস নম্বর ১৩৮৮/২৬, তারিখ ১২ জুলাই ২৬ মামলায় ভারতীয় দন্ডবিধির ৬১(২), ১০৩(২), ৫৫, ১৮৯(২), ১৯০, ১৯১(২), ১৯২, ১৯৬, ৩৫৩ (১) (সি), ৩৫৩(২), ২৯৯, ১২১(১), ১২১(২), ১৩২, ১১৫(২), ১১৭(৪), ৩২৪(২), ৩২৪(৬), ৩২৯(৩), ৩৫১ বিএনএস ৩, পিডিপিপি অ্যাক্ট ১৯৮৪, ৯ এমপিও অ্যাক্ট ১৯৭২ ও ১৫০, ১৫১, ১৫৩, ১৭৪ ভারতীয় রেলওয়ে অ্যাক্ট ১৯৮৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার রাতে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ও এসটিএফ তাকে বারুইপুরের খোদারবাজারে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
সোমবার সকালে নরেন্দ্রপুর থানা থেকে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় লাহেক আলিকে হেলমেট পরিয়ে গাড়িতে তোলা হয়। এদিন বারুইপুর আদালতে শুনানি চলাকালীন অবাঞ্ছিতরা আদালত চত্বরে ভিড় করে। লাহেকের আইনজীবীদের কার্যত হুমকির মুখে ফেলা হয় আদালত চত্বরে। পুলিশকে অভিযোগও জানান তাঁরা।
এদিন শুনানির সময় আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) নেতা তুষার ঘোষ, অলোক ভট্টাচার্য, অশোক ভট্টাচার্য, স্বপন নস্কর সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পার্টি কর্মীরা।
Lahek Ali police custody.
এক অভিযোগে একাধিক এফআইআর, ৮দিনের পুলিশ হেপাজত লাহেক আলির
×
Comments :0