Mostafizur Rahaman on Baruipur incident

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ঠিক উলটো, বারুইপুরে ধর্ষণ-খুন প্রসঙ্গে বললেন মোস্তাফিজুর

রাজ্য জেলা

বারুইপুরের সূর্যপুরে বিক্ষোভের একাংশ। ছবি: অনিল কুণ্ডু

জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তকে ছাড়াতে বিজেপি নেতা চাপ দিয়ে থাকলে তা নিন্দাজনক। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী। বারুইপুরের সূর্যপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। 
এক ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুর হাট এলাকায়। রবিবার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে দেহ উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ বিজেপি সমর্থক দুষ্কৃতীরা পুকুরে ডুবিয়ে নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযুক্ত সন্দেহে মারধরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়েছে পুলিশকেও। তাঁদের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ স্থানীয় সদ্য বিজেপি নেতা বনে যাওয়া শান্তনু মন্ডলের নির্দেশে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়।
এদিকে রাজ্যজুড়ে বারুইপুরের ঘটনার প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে ডিওয়াইএফআই সহ বিভিন্ন সংগঠন। 
এদিকে রবিবার সকাল থেকে সূর্যপুরের মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। অভিযুক্তদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে তিনি নিহত নাবালিকার পরিবারকে মঙ্গলবার ভবানী ভবনে দেখা করতে বলেছেন। 
ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী ১২ বছরের ওই নাবালিকা শনিবার বিকালে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিল।‌ বন্ধুর জন্মদিনে গিফট দিতে যাচ্ছিল। তারপর আর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের তরফে বারুইপুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়।‌ পরিবারের অভিযোগ, পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও পুলিশ কোন গুরুত্ব দেয়নি।‌ রাতেই নিখোঁজ নাবালিকার খোঁজে তল্লাশি চালালে এভাবে প্রাণ দিতে হতো না তাঁদের মেয়েকে।‌
সন্তান হারা শোকার্ত এই পরিবার রবিবার অভিযোগ করে বলেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪ টে নাগাদ সে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিল।‌ রাস্তায় রাজু নামে এক যুবককে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।‌ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে চিহ্নিত করা হয়। রাতে নিখোঁজ নাবালিকার খোঁজে তার বাড়িতে যাওয়া হলে গুলি নামে একজনের কথা জানায়। রবিবার ভোরে পুলিশ সঙ্গে নিয়ে গুলির বাড়িতে যাওয়া হলে সে প্রবীর, দিবাকরসহ আরো ৪ জনের নাম করে। এরপর পুলিশ ও এলাকার যুবকদের একটি দল বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বাদার ভিতরে পুকুর থেকে পলিথিনের বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।‌
এদিন সকাল থেকে অবরোধ বিক্ষোভ স্থলে ছিলেন সিপিআই(এম) বারুইপুর পশ্চিম ২ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সফিউদ্দিন খান সহ স্থানীয় পার্টি নেতৃত্ব ও কর্মীরা। পরে আসেন লাহেক আলি সহ অন্যান্যরা। সফিউদ্দিন খান জানান, পুলিশ জোর করে মৃতদেহ গাড়িতে তোলায় সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাঁদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, অপরাধীদের ধরে পুলিশের কাছে দেওয়ার পর বিজেপি নেতা শান্তনু মন্ডলের কথায় পুলিশ তাদের ছেড়ে দেওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আরো বেড়ে যায়। আমরা চাই এই ঘটনায় সকলের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। কেউ যেন ছাড়া না পায়। 
এই প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর বলেন, প্রশাসনকে কড়া হাতে এই ধরনের অপরাধ দমন করতে হবে। বিষয়টি বিধানসভায় তোলা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, বিজেপি সরকার একদিকে বলছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। আরেকদিকে তাদের দলের লোকের কথায় জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তকে যদি পুলিশ ছেড়ে দিলে কথার ঠিক উলটো পথে হাঁটা হয়।

Comments :0

Login to leave a comment