প্রকৃত ভোটাদের নাম বাতিল করে ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের নাম রেখে দেওয়া হলে ঘুম কেড়ে নেওয়া হবে। সেই লড়াইয়ের শপথ নেওয়া হয়েছে অবস্থান বিক্ষোভে।
বৃহস্পতিবার কলকাতায় সিইও দপ্তরের সামনে অবস্থান মঞ্চ থেকে একথা বলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
বামফ্রন্ট এবং সহযোগী দলগুলি এই অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেয়। বুধবার মিছিল করে অবস্থানে বসে। পুলিশ অবস্থান তুলে দিতে চেষ্টা করলেও রাতভর বসে ছিলেন বামপন্থী দলগুলির কর্মীরা। বৃহস্পতিবার ফের হয়েছে অবস্থান।
আগামী ৯-১০ মার্চ রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে আসছে কমিশন। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সেলিম বলেন, ‘‘আমরা এমন আন্দোলন করব যে তাঁর জ্ঞানচক্ষু উন্মিলিত হবে।‘‘
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল জানান যে ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। ৫ লক্ষের বেশি কিছু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। তেমনি বিপুল সংখক নামকে ‘বিবেচনাধীন’ বলে ঝুলিয়ে রেখে চূড়ান্ত তালিকার প্রকাশ ঘিরে রয়েছে ক্ষোভ।
বামপন্থীদের দাবি প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে বা ‘বিবেচনাধীন‘ অবস্থায় রেখে রাজ্যে ভোট ঘোষণা করা যাবে না। সূত্রের খবর, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যে ভোট ঘোষণা করতে পারে কমিশন। বামফ্রন্টের দাবি, হটাতে হবে ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের নামও।
এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, ‘‘নিয়ম অনুযায়ীই ভোট প্রস্তুতি দেখার পর্বে নির্বাচন কমিশনকে সর্বদলীয় বৈঠক করতে হয়। কিন্তু এসআইআর পর্বে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সর্বদলীয় বৈঠক করা। উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে এমন বৈঠক করাই রীতি। তিনি তা না করে তামাশা করছেন।’’
সেলিম বলেন, ‘‘এখনও মুখ্যমন্ত্রীর উচিত সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা। যাতে রাজ্যের মানুষ একবাক্যে বলে এসআইআর’র নামে সর্বজনীন ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চক্রান্ত আরএসএস চালাচ্ছে, তা এ রাজ্যে চলবে না।’’
আগামী শুক্রবার থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকায় ক্ষোভ জানাতে ধর্মতলায় অবস্থানে অবস্থানে বসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল প্রধান মমতা ব্যানার্জি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী এবং আধিকারিকরা যুক্ত ছিলেন। ভোটার তালিকায় গরমিল ঘিরে রাজ্যের ভূমিকাতেও ক্ষোভ রয়েছে প্রায় সব অংশে।
শুক্রবার থেকে জেলায় জেলায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবারই বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বামফ্রন্ট এবং সিপিআই(এম)। বিক্ষোভ হয়েছে বিভিন্ন বিডিও দপ্তরে।
সেলিম এই কর্মসূচি জানিয়ে বলেছেন, ‘‘শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত স্পেশাল লিভ পিটিশন হবে।’’
মহম্মদ সেলিম অবস্থান মঞ্চে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে বলেন, ‘‘আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়ে দাবি জানাতে এসেছিলাম। আমাদের অবস্থান করার পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু সেই স্মারকলিপি পর্যন্ত নিতে অরাজি ছিল সিইও দপ্তর। ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ভোটাধিকার রক্ষার দাবি জানানোর অধিকারও কেড়ে নিতে চায়।’’
সেলিম তৃণমূল প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘যারা আমাদের রাজ্যে ভোটাধিকার হরণ করে তারা বলছে যা করবেন ম্যাডাম করবেন অন্য কেউ কেন করবেন! পুলিশ বলল এখানে রাস্তায় অসুবিধা হচ্ছে। আমরা বললাম এখানেই প্যান্ডেল খাটানো রয়েছে সে বলায় অসুবিধা হচ্ছে না। মেট্রো চ্যানেলে ম্যারাপ বাঁধা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। তাতেও অসুবিধা হচ্ছে না। রাজীব কুমারকে বাঁচানোর জন্য তখন বসেছিলেন, এখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য বসছেন। পুলিশ বলল আপনাদের ‘পারমিশন নেই’। আমরা বলি যে রেড রোডে তৃণমূলের মিছিল হয়েচিল তার পারমিশনের কপি দেখান। রাজভবনে অভিষেক ব্যানার্জির মঞ্চ বাঁধা হয়েচিল তার পারমিশন দেখান। পুলিশ বলল আমরা ‘পারমিশন‘ দেখাতে পারব না। আমরাও বললাম যে তা’হলে আমরাও পারমিশন নিতে পারব না।’’
SIR Left Front
প্রকৃত ভোটারদের বাদ রেখে ভোট হবে না, অবস্থান শেষে ঘোষণা বামফ্রন্টের
সিইও দপ্তরের সামনে শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, মহম্মদ সেলিম সহ বামপন্থী নেতৃবৃন্দ।
×
Comments :0