বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়াকে অনুমোদন করার অর্থ ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’ পদ্ধতিতে সম্মতি নয়।
এসআইআর সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এই মর্মে মৌখিক পর্যবেক্ষণ জানালো সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
প্রধানবিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে অন্যতম বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেছেন, ‘‘বিহারের এসআইআর-কে বাধ্যতামূলক নজির হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সেখানে (বিহারে) জাতীয় নির্বাচন কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’ বা যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতিকে বিবেচ্য করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।’’
বিচারপতি বাগচী আরও বলেছেন, ‘‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির আইনি বৈধতা এখনও বিবেচনার অধীন। আমরা এর বেশি কিছু বলছি না।’’
কলকাতায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দাবি করেছিলেন যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি’ কেবল পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, সব রাজ্যের জন্যই হয়েছে।
এদিন দিল্লির এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বাগচী কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন যে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা (নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তৈরি) নাম থাকলে কেন লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সি-র আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রথমে বিহারে। সেখানে ‘ম্যাপিং’ পদ্ধতিতে দেখা হয় শেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘আইআর’ প্রক্রিয়ায় তৈরি ভোটার তালিকায় নাম ছিল কিনা। নিজের নাম না থাকলেও সম্পর্কযুক্ত কারও নাম ছিল কিনা দেখা হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ‘ম্যাপিং’ পদ্ধতির পর যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি প্রক্রিয়া চালু হয়। আইআর-র মাধ্যমে তৈরি তালিকায় নাম থাকলেও যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২৭ লক্ষ নাম কেবল পশ্চিমবঙ্গেই বাদ পড়ে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে। নামের বানানে সামান্য ভুল থেকে বাবা বা মায়ের সন্তান ৬ জন থাকলেও নাম বাদ পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এই ধরনের বিষয়গুলি হাজিরও করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে। তবে এসআইআর প্রক্রিয়াকে স্থগিত করেনি শীর্ষ আদালত। আর কমিশনও লক্ষ লক্ষ নামের আবেদন বিবেচনাধীন রেখেই নির্বাচন ঘোষণা করে দেয়।
SIR Logical Discrpancy SC
‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’-র বৈধতা বিবেচনাধীন, এখন বলছে সুপ্রিম কোর্ট
×
Comments :0