মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
একদিকে ডেঙ্গু অন্যদিকে হামের প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশে। জনস্বাস্থ্যের ওপর একসঙ্গে বড় চাপ তৈরি করেছে এই দুটি রোগ। ঢাকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গে মৃত্যুর খবর স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সরকারি হিসাবে, অক্টোবরের প্রথম ২৭ দিনেই ডেঙ্গুতে ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সম্মিলিত সংখ্যা বেড়েছে অন্তত ১৩০।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু ও হামের সংকট শুধু আক্রান্তের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নেই; হাসপাতালমুখী রোগীর চাপ, শিশুদের ঝুঁকি এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতাও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ডেঙ্গুতে ২৭ দিনে মৃত্যু ১৫৫, আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি ৪৮ হাজারের বেশি। ২৭ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ২৮ হাজার ২৩৭ জন। সরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০। অক্টোবরের প্রথম ২৭ দিনেই মারা গেছেন ১৫৫ জন যা সেপ্টেম্বরের পুরো মাসে নথিভুক্ত ১৪৮ মৃত্যুকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ২২৮। ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ও মাসভিত্তিক হিসাবের তুলনায় অক্টোবরজুড়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৮ হাজারের বেশি।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আগস্টে মৃত্যু ছিল ৪৩, জুলাইয়ে ৩৬ এবং জুনে ১৩ জন। অর্থাৎ বর্ষা মৌসুমের পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর প্রাণঘাতী প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৭ অক্টোবরের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির চিত্র। ঢাকা বিভাগে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৯৯। খুলনায় ২৫০, চট্টগ্রামে ২৪১, রাজশাহীতে ২২৯, বরিশালে ২১৭, রংপুরে ১১২, ময়মনসিংহে ৯৭ এবং সিলেটে ২৬ জন রোগী ভর্তি হন।
অন্যদিকে, হামের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে। এক মাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ১৩০। ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের অনুযায়ী ১ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১১০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৪০ হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ের ব্যবধানে বেড়েছে ১৩০ জন।
একই সময়ে সন্দেহভাজন হামের উপসর্গ নিয়ে নথিভুক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৮৬৩ থেকে বেড়ে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৭৮৪ হয়েছে । বৃদ্ধি ৩০ হাজার ৯২১। পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৬০২ থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫৪১ হয়েছে। বৃদ্ধি ১ হাজার ৯৩৯ জন।
২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ১২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১ লক্ষ ৯১ হাজার ৯০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। একই দিনে ১ হাজার ২৩২টি নতুন সন্দেহভাজন রোগীর তথ্য এবং ৬৩টি নতুন নিশ্চিত সংক্রমণের খবর প্রকাশিত হয়।
Bangladesh
হাম ডেঙ্গুর জোড়া ফলায় বিধ্বস্ত বাংলাদেশ
×
Comments :0