Slow Loris

বিরল প্রজাতির ‘স্লো লরিস’ সহ গ্রেপ্তার ২

জেলা

বিরল বন্যপ্রাণী উদ্ধার কল্যাণী-বারাকপুর হাইওয়েতে। একটি মোটরবাইকের ঝুড়ি থেকে বেঙ্গল স্লো লরিসের শাবক উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুজনকে। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতদের নাম সুজয় দাস ও ইন্দ্রজিৎ মুখার্জি। উদ্ধার হওয়া প্রাণীটিকে কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পিছনে বড়সড় কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের খোঁজ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের বুধবার পুলিশের হেফাজত চেয়ে কল্যাণী আদালতে তোলা হয়। গত কয়েকদিন আগে উদয়পুর-তালসারির বনাঞ্চল থেকে বেশ কয়েকটি ওরাংওটাং উদ্ধার হয়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে বড়সড় আন্তর্জাতিক পশুপাচার চক্রের হদিস পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। অভিযানে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী ‘স্লো লরিস’-এর একটি শাবক উদ্ধার করল কল্যাণী থানার পুলিশ। কল্যাণী-বারাকপুর হাইওয়েতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি মোটরবাইক থেকে বিরল ওই বন্যপ্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে কল্যাণী-বারাকপুর হাইওয়েতে  বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে সন্দেহভাজন দুই মোটরবাইক চালককে আটক করে তল্লাশি চালান তদন্তকারী আধিকারিকরা। তল্লাশি চলাকালীন বাইকে থাকা একটি ঝুড়ি থেকে বেঙ্গল স্লো লরিস প্রজাতির একটি শাবক উদ্ধার হয়। এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় সুজয় দাস এবং ইন্দ্রজিত মুখার্জিকে। পুলিশ জানিয়েছে একজন নাগেরবাজারের বাসিন্দা, অন্যজন কাশীপুর এলাকার বাসিন্দা। সুজয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও কলকাতা আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে বিরল প্রজাতির বানর চুরির অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি অত্যন্ত বিরল প্রজাতির। পৃথিবীর কয়েকটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে অন্যতম। বেঙ্গল স্লো লরিস একটি নিশাচর প্রাইমেট, যা মূলত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন বনাঞ্চলে বসবাস করে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল-সহ এশিয়ার বার্মা বাংলাদেশ সহ কয়েকটি অঞ্চলে এই প্রাণীর দেখা মেলে। বড় বড় চোখ, গাছের ডাল আঁকড়ে ধরার ক্ষমতা এবং ধীরগতিতে চলাফেরা করার জন্য প্রাণীটি বিশেষভাবে পরিচিত। সাধারণত রাতের বেলায় এরা খাবারের সন্ধানে বের হয় এবং দিনের বেশির ভাগ সময় গাছের আড়ালে বিশ্রাম নেয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রাণীর গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু অস্তিত্ব ক্রমশ বিপন্ন হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীটির বয়স প্রায় পাঁচ বছর এবং ওজন প্রায় দুই কেজি। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রাণীটিকে বাইরে কোথাও পাচারের উদ্দেশ্যেই কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া বিরল বন্যপ্রাণীটিকে ইতিমধ্যেই কল্যাণী বন দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment