প্রবন্ধ | শতবর্ষ উত্তমকুমার ও দেশপ্রেম
তপন কুমার বৈরাগ্য
মুক্তধারা | বর্ষ ৪ | ৩০ জুলাই ২০২৬
উত্তমকুমার তখনো চলচ্চিত্রে আসেন নি।ঊনিশশো আটচল্লিশে
দৃষ্টিদান ছবির মাধ্যমে তার আত্মপ্রকাশ।১৯৫১খ্রিস্টাব্দে সহযাত্রী
ছবিতে তিনি পাহাড়ী স্যান্যালের পরামর্শে উত্তমকুমার নামটা
প্রথম ব্যবহার করেন।
সালটা ১৯৪২ ,কলকাতার রাজপথ ধরে একজন কিশোর
ভারত ছাড়ো আন্দোলনে সকলে সাথে হেঁটে চলেছেন।
মুখে বন্দেমাতরম ধ্বনি।বুকে নেই ভয়।এই ছেলেটা আর কেউ নয়।তিনি কিশোর উত্তমকুমার।
প্রতিদিন প্রভাতফেরিতে তিনি অংশ গ্রহণ করছেন।মুখে ছিল হাসি,বুকে ছিল বল।যার আসল নাম অরুণ কুমার টট্টোপাধ্যায়।উনিশো পঁয়তাল্লিশ সালের ২৩শে জানুয়ারি নেতাজী সুভাষচন্দ্রের জন্মদিনে উত্তমকুমার নেতাজি সুভাষচন্দ্রকে
নিয়ে একটা গান লিখলেন--সুভাষেরই জন্মদিনে গাইব নতুন গান।
গানটা নিজেই সুর দিয়ে কলকাতার রাজপথে গেয়ে শুনালেন।
সকলে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেলেন।
১৯৪৩খ্রিস্টাব্দে ১৭বছর বয়েসে উত্তম কুমার লুনার ক্লাব প্রতিষ্ঠা
করেন।উদ্দেশ্য ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে উজ্জিবিত করার
জন্য বৈপ্লবিক নাটকগুলো প্রদর্শন করা।তাছাড়া বিভিন্ন বিপ্লবী
প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহযোগিতা করা।
১৯৪৩খ্রিস্টাব্দে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সিঙ্গাপুরে ইন্ডিয়ান
ন্যাশনাল আর্মিকে পুরুজ্জীবিত এবং পুনর্গঠন করেন এবং সর্বময় নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য এই বাহিনীর দান কখনো ভুলবার নয়।
সুভাষচন্দ্র এই বাহিনীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সকলের কাছে
আর্থিক সহযোগিতা চাইলেন।উত্তম কুমারের কানে এ খবর গেল।
তিনি আই এন এ তহবিলে আর্থিক সহযোগিতার জন্য লুনার
ক্লাবের উদ্যগে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ
নাটকের চ্যারিটি শো করলেন। সেদিন ১৭৫০টাকার টিকিট
বিক্রি হয়েছিল।সেই টাকা তিনি নেতাজির বড়ো ভাই সতীশচন্দ্র
বসুর হাতে তুলে দিয়ে এলেন।সেদিন সতীশচন্দ্র বসু আশীর্বাদ
করে বলেছিলেন- অনেক অনেক বড় হও।দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করো। তার আশীর্বাদ ব্যর্থ হয়নি।তিনি এরপর উত্তমকুমার
হয়ে দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করে গেছেন।
আজ শতবর্ষে উত্তমকুমার সমান উজ্জ্বল।
Comments :0