Rajiv Kumar HDFC

অবসরের পর পুরস্কার? প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে এইচডিএফসি’র প্রধান নিয়োগে উঠছে প্রশ্ন

জাতীয়

লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল তাঁর নজরদারিতে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান ছিলেন তিনি। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে অবসরের পর মিলেছে নতুন নিয়োগ। বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাঙ্ক এইচডিএফসি’র চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হয়েছেন সেই রাজীব কুমার। 
মুখ্য নির্বাচন কমিশনে পদে আসীন থাকার মেয়াদে কমিশনের বিরুদ্ধে উঠেছে ভুরিভুরি অভিযোগ। বিজেপি’র শাখা হয়ে কাজের অভিযোগে সরব হন বিরোধীরা। ইভিএম কারচুপি এবং ভোটার তালিকায় গরমিল নিয়েও নিয়মিত অভিযোগ উঠত। কমিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জবাব এড়িয়ে ‘শায়েরি’ শোনাতেন রাজীব কুমার। লোকসভা ভোটের আগে বাঁশওয়াড়ায় নরেন্দ্র মোদী ভাষণে বলেছিলেন কংগ্রেস হিন্দু মহিলাদের মঙ্গলসূত্র কেড়ে মুসলিমদের দেবে। বলেছিলেন, কংগ্রেস হিন্দুদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেড়ে অনুপ্রবেশকারীদের দেবে। প্রবল শোরগোল হওয়ায় বিজেপি সভাপতিকে চিঠি দেয় কমিশন। কিন্তু রাজীব কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশন কোথাও মোদীর নাম বা বক্তব্যের উল্লেখ করেনি। 
গত ২৯ জুন রাজীব কুমারকে অস্থায়ী স্বাধীন ডিরেক্টর পদে চার বছরের জন্য নিয়োগ করেছে এইচডিএফসি বোর্ড। সেই সঙ্গে তিন বছরের জন্য পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান পদেও তাঁকে নিয়োগ করেছে বোর্ড।
এইচডিএফসি-তে মাসখানেক আগেই কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। নেমে যায় শেয়ারের দর। স্বাধীন ডিরেক্টর পদ ছাড়েন অতনু চক্রবর্তী। বিদায়ের সময় তিনি বলেন, ‘‘গত দু’বছরে এমন কিছু কাজকর্ম নজরে এসেছে যা আমার মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার সঙ্গে মানানসই নয়।’’ 
এইচডিএফসি বোর্ড রাজীব কুমারকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে রাজীব কুমার ২০১৭-২০ পর্বে কেন্দ্রীয় অর্থসচিব এবং আর্থিক পরিষেবা দপ্তরের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রাক্তন এই আইএএস আধিকারিকের মেয়াদেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ব্যালেন্স শিট পরিষ্কার করার কাজ চলে। অনাদায়ী ঋণ কমানোর ব্যবস্থা হয়। 
ঘটনা হলো, এই পর্বেই ব্যালেন্স শিট পরিষ্কারের নামে কর্পোরেটের ঋণের ভার ছাঁটকাট করার অভিযোগ ছিল। কোনও সংস্থাকে দেউলিয়া ঘোষণা করার বিধি বা আইবিসি-তে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের লোকসান হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। 
ব্যাঙ্ক ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিযোগ, এইচডিএফসি-তে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা উচিত ছিল ব্যাঙ্ক সামলানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোনও পেশাদারকে। বিভিন্ন অংশেরই বক্তব্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে থেকে বিজেপি-কে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার পুরস্কার পেয়েছেন রাজীব কুমার। বেসরকারি ব্যাঙ্ক হলেও কেন্দ্রে আসীন বিজেপি’র ‘ইচ্ছা’ অমান্য করা অসম্ভব বেসরকারি ব্যাঙ্কের পক্ষেও। 

Comments :0

Login to leave a comment