REGA and G RAM G

রেগায় ছিল, রামজি-তে নেই

সম্পাদকীয় বিভাগ

সংগঠিত ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বহুদিন ধরেই তৈরি হচ্ছে না। বেকারি, অর্ধ বেকারি এবং নিম্ন মজুরির প্রকোপে গোটা দেশে দুর্বিষহ জীবন কাটছে সাধারণ মানুষের।‍ মোদী সরকার ২০৪৭ সালের বিকশিত ভারতের খুড়োর কল দেখিয়ে মানুষকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে কৃষি সহ অন্যান্য অসংগঠিত ক্ষেত্রেও কাজের হাহাকার। দু’দশক আগে প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলে প্রধানত বামপন্থীদের চাপে গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প তথা রেগা প্রকল্প চালু করে গ্রামের মানুষের রোজগারহীন অসহায়তা থেকে মুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। কংগ্রেস জমানার কোনও চিহ্ন না রাখার সংকল্প থেকে বর্তমান হিন্দুত্ববাদী সরকার সেই প্রকল্পের খোলনলচে পালটে জি-রামজি প্রকল্প চালু করেছে। অনুন্নত ও পশ্চাৎপদ গ্রামীণ ভারতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর রামজি প্রকল্পের জটিলতায় বিপুল সংখ্যক মানুষ নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি বা বাতিল হয়ে গেছে। পাশাপাশি আগের প্রকল্পের পূর্ণ আর্থিক দায়িত্ব ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের উপর। মোদীদের নতুন প্রকল্পের ৪০ শতাংশ অর্থের দায়ভার চাপানো হয়েছে রাজ্যগুলির উপর। এমনিতেই আর্থিক অনটনে জর্জরিত বেশিরভাগ রাজ্য ঋণের উপর ভরসা করে ধুঁকতে ধুঁকতে চলছে। তাদের পক্ষে রামজি প্রকল্পের অতিরিক্ত বিপুল আর্থিক দায় বহন করা কার্যত অসম্ভব। তথাপি গ্রামের গরিব কৃষক ও খেতমজুরদের কাজের অভাব পূরণ করতে তারা কিছুটা বরাদ্দ করছে। কিন্তু সেটা চাহিদার তুলনায় কম। তাই এই প্রকল্পকে সফলভাবে রূপায়ণ করে গ্রামের মানুষের আয় বৃদ্ধির কাজে তারা যথেষ্ট উৎসাহ দেখাতে ভয় পাচ্ছে। যত উৎসাহ দেবে ততই তাদের আর্থিক দায়ভার বাড়বে। বস্তুত এসব এবং অন্যান্য কিছু কারণে জি রামজি শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে।
গান্ধীজীকে উৎখাত করে রামের নামে মোদীদের নতুন রামজি চালু হয়েছে এ বছর জুলাই মাস থেকে। আর প্রথম মাসেই শ্রমদিবস সৃষ্টি অর্ধেক কমে গেছে। গত বছর জুলাই মাসে রেগা প্রকল্পে যেখানে ১৫.৩৩ কোটি কর্মদিবস তৈরি হয়েছিল সেখানে এ বছর রামজিতে তৈরি হয়েছে মাত্র ৭.৬৭ কোটি কর্ম দিবস। কেন এমন হলো?
সরকার বলছে যারা কাজ চেয়েছে তাদের ৯৮ শতাংশকেই কাজ দেওয়া হয়েছে। তাহলে কি গ্রাম ভারত এতটাই বিকশিত হয়ে উঠেছে যে মানুষ কাজই চাইছে না! রেগার শেষ মাস পর্যন্ত মানুষের হাতে কাজ ছিল না। তাই তারা রেগায় কাজ করেছেন। রামজি চালু হবার মাসে তারা কাজ চাইছেন না। ব্যাপারটা এমন নয় জুলাই মাসে গ্রামে পর্যাপ্ত কাজ হয়েছে। বরং উলটোটাই সত্য। এ বছর বৃষ্টি অল্পতার কারণে অনেক কম জমিতে চাষ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক কারণেই কাজ অনেক কম। তাই রামজি-তে কাজের চাহিদা অনেক বেড়ে যাবার কথা। বাস্তবে বাড়েনি বরং কমেছে। যারা কাজ করেছে তাদের মধ্যে মহিলাই বেশি। তাহলে পুরুষরা গেল কোথায়? অনুমান গ্রাম ভারতের কর্মহীন পুরুষরা শহরে বা ভিন রাজ্যে পরিযায়ী হয়েছে। তাই মহিলারা কাজ বেশি করেছে।
গ্রামে চাহিদার তুলনায় কম কাজ। সেজন্যই রামজি-তে বেশি কর্ম দিবস তৈরি হবার কথা। অথচ কাজ কমে অর্ধেক হওয়ায় গ্রামীণ পরিবারের আয় কমেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাহিদার ভাটা পড়ার আশঙ্কা করছে পণ্য উৎপাদকরা। সেটা আখেরে পণ্য উৎপাদনের রাশ টানবে। শহরে কর্মসংস্থানে এবং মজুরিতে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করবে। রামজি শাসক রাজনীতিতে হাওয়া দিয়েছে ঠিকই গ্রামের গরিব মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াননি। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার কাজেও লাগেনি।

Comments :0

Login to leave a comment