গল্প | আলোর যাত্রী
রাহুল চট্টোপাধ্যায়
মুক্তধারা | বর্ষ ৪ | ২৮ জুন ২০২৬
রোদটা পড়ন্ত। এমনিতেই মেঘলা সবকিছু পরিস্কার দেখা যায় না। তার মধ্যেই মহেশ হাঁটতে হাঁটতে অন্ধকার মাড়িয়ে চলতে থাকলো। বড্ডো দুশ্চিন্তা নিয়ে মাথাটা ভার। এতদিনের জীবনটা কেমন এক রাত্তিরে বদলে গেল ,কেমন কষ্ট করে গড়া বাড়িটা ধ্বসে গেল। ভাবতে ভাবতে মহেশ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর হয়তো নিশ্চিত জীবনে ফেরা হবে না। মনুয়ার মা-কে ঐ লোকের বাড়ির কাজের লোক হয়েই থাকতে। হবে।
মহেশের পেছনে পেছনে লক্ষ্মী আর মনুয়া। আজ রাতটা এভাবেই হেঁটে তারা পৌঁছবে মুনশীপুর। ওখানে মহেশের মাসির বাড়ি।একটা দুটো দিন থেকে ভেবে নেবে কি করবে তারা।
পথ চলতে চলতে ওরা পৌছেঁ যায় লোনাদিঘি নদীর ধারে।নৌকায় পার হয়ে যাবে বাকি পথটা।নৌকা এসে ঘাটে ভেড়ে।মহেশ লক্ষ্মী আর মনুয়া উঠে বসে।নৌকা ছেড়ে যায়।তখন সবে ভোর হচ্ছে।পুবের আলোয় লক্ষ্মীর মুখখানা দেখে মহেশ।তারপর খপ করে তার হাতদুটো ধরে বলে-'বউ সরকার আমাদের জায়গা কেড়ে নিক,এতো বড়ো পৃথিবীতে আমদের ঠিক জায়গা হবেই,আমরা জিতবই।'
লক্ষ্মী রাঙা মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকায়।
Comments :0