নিজের জীবন বিপন্ন করে গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়া তিনজনকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন ভাটপাড়ার বাবুরানিপাড়ার বাসিন্দা একাদশ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ সরকার। সৌরভও গঙ্গায় তলিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটা নাগাদ সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সৌরভ সরকারের বাবা গোবিন্দ সরকারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ভাটপাড়ার বাসিন্দা গৌতম রায় সকালে গোবিন্দ সরকারের বাড়িতে গিয়ে ফোনে রাজ্য সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে ধর্নামঞ্চে ছিলেন মহম্মদ সেলিম। সেখান থেকেই ফোনে সৌরভের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। সেলিম বলেন, আমি আজকে সকালে গনশক্তি কাগজের মাধ্যমে এই মর্মান্তিক খবরটা জানলাম। সেখান থেকেই মোবাইল ফোনেই শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা ব্যাক্ত করেন। সৌরভের বাবা মহম্মদ সেলিমকে ফোনে পুত্রশোকের বেদনার কথা বলেন।
দোলের দিন ভাটপাড়া বলরাম সরকার ঘাটে গঙ্গায় স্নান করতে নেমে এক যুবতী সহ দুইজন তলিয়ে যায়। তাদের বাঁচাতে অপর একজন যুবকও গঙ্গায় তলিয়ে যায়। আটচল্লিশ ঘণ্টা পর চারজনের মধ্যে একজনের দেহ এনডিআরএফ টিম উদ্ধার করতে পেরেছে। ইছাপুর নবাবগঞ্জ ঘাটে বৃহস্পতিবার বিকেলে একজনের দেহ ভাসতে দেখা যায়। এনডিআরএফ টিম দেহটি উদ্ধার করে। এইটি মহিলার দেহ। পুলিশের অনুমান এই দেহটি মঙ্গলবার গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়া যুবতী দীপশিখা দাস রজকের। এই মহিলার দেহ শনাক্ত করার জন্য সুশীল নন্দী কে পুলিশ ইছাপুর নিয়ে যায়। এখনও সৈকত নন্দী, সৌরভ নন্দী ও সৌরভ সরকারের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। এই নিয়ে মাদ্রাল কাটাবটতলা গভঃ কলোনি এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। মানুষের অভিযোগ আটচল্লিশ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও পাড়ার ছেলের দেহ পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। একইভাবে ভাটপাড়ার বাবুরানিপাড়ার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসছে। এদিন বিকেলে ভাটপাড়া পৌরসভার তৃণমূলের পৌর পারিষদ সদস্যকে ঘিরে ধরে এলাকার মানুষ বিক্ষোভ দেখায়। মানুষের দাবি দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাট সংস্কার হয় না। এই ঘাটের বামদিকে একটা ঘুর্নির মতো আছে। এখানে একটা বোর্ড লাগানো নেই। এই ঘাটে এইভাবে বহু মানুষ মারা গেছেন। কিন্তু ঘাট সংস্কার করা হয় না। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সৌরভ সরকারের দাদা বলেন, আমরা আমাদের ভাইকে এখনও খুঁজে পেলাম না। আটচল্লিশ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। আমার ভাই তিনজনকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণ দিয়ে দিলো। ভাই নিজের জীবন বিপন্ন হলেও অপরের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছুদিন আগেও একজনকে বাঁচিয়েছে। এখন ও নিজেই চলে গেল।
Bhatpara
তিনজনকে বাঁচাতে প্রাণ দিয়েছে সৌরভ, বাবাকে ফোন সেলিমের
×
Comments :0