TMC Cooch Behar

কোচবিহারে ‘কাটমানি’ তুলতে গড়া হয়েছিল কমিটি

রাজ্য

দলেদলে ‘ভালো তৃণমূল’ হয়ে বিজেপিতে যুক্ত হচ্ছেন একের পর এক সাংসদ বিধায়করা। তারমধ্যেই কোচবিহার জেলায় কাটমানি তোলার জন্য একেবার বুথ স্তরে কমিটি গড়েছিল তৃণমূল! সেই কাটমানির কমিশন জেলার বিধায়ক, সাংসদ আর নেতাদের কাছে এতদিন পৌঁছে যেত! এই খবর একে একে প্রকাশ্যে আসছে! সেই বিধায়ক আর সংসদেরা আবার মুখ্যমন্ত্রীর চোখে ভালো তৃণমূল! আসলে তৃণমূল রাজ্যের ক্ষমতা থেকে না গেলে জানাই যেত না, আবাস যোজনা, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা সহ প্রতিটি উন্নয়নের থেকে ‘‘কাটমানি’’ তুলতে রীতিমত কমিটি গড়া হয়েছিল জেলার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের বুথে বুথে! একই ভাবে শহর এলাকাতেও বুথে বুথে কাটমানি তোলার কমিটি হয়েছিল তৃণমূল রাজত্বে! সেই কাটমানির কমিশন চলে যেত দলের ওপর তলাতেও!
কোচবিহারের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেলাডাঙার তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা সাহিদা বিবি’র এহেন গোপন এজেন্ডা সামনে নিয়ে আসায় কোচবিহার জেলার তৃণমূলের নেতারা আরো বেকায়দায় পড়লেন! সাহিদা বিবি’র আরও বক্তব্য,‘‘কাটমানি নিয়ে তেমন কোন বড় ভুল করেন নি। এলাকার বাসিন্দারা আবাস যোজনার ঘর পেয়েছে পঞ্চায়েত সদস্যদের পরিশ্রমের কারণেই! উপোভোক্তারা খুশি হয়েই টাকা দিয়েছিল পঞ্চায়েত সদস্যদের!’’ একই এরকম কমিটি গড়ার কথা বলছেন, মাথাভাঙা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার কাকলী ঘোষও। যদিও ভোটের ফল প্রকাশের পর কিছুদিন বাড়ি ছাড়া থাকার পর ফিরে এসে নিজেই ফেরাচ্ছেন কাটমানির টাকা। সাহুদা বিবি যাই দাবি করুক না কেন ১৬৯ নম্বর বুথের বাসিন্দা সুনীতি রায় অভিযোগ করেন মোটেই খুশি হয়ে টাকা দিই নি। টাকা না দিলে ঘর মিলবে না, বাধ্য হয়েই ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। সেই টাকা ফেরত চাই। আরেক বাসিন্দা রত্না রায় বলেন ঘরের জন্য প্রথমে ৬ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। তাতে সন্তুষ্ট হয় নি পঞ্চায়েত সদস্যা। প্রায় হাতে পায়ে ধরে ৯ হাজার টাকা দিয়ে ঘর পেতে হয়েছে। বিশেষভাবে সক্ষম আফজাল হোসেনকেও ঘর পেতে দিতে হয়েছে ৫ হাজার টাকা। তৃণমূলের ওই পঞ্চায়েত সদস্যা সাহিদা বিবি বুধবার বলেন, ‘‘আমাদের বুথে টাকা তোলার যে কমিটি হয়েছিল দলের বুথ সভাপতি আমার স্বামী সহ আরও কয়েকজন নেতা ছিল। খোঁজ নিয়ে দেখুন সব বুথেই এরকম কমিটি ছিল। টাকা ফেরত দিতে হলে কমিটির সবাই মিলে টাকা ফেরত দেবে। শুধু আমায় কেন আসামী হতে হবে?
তৃণমূলের রাজত্বে মহিলা পঞ্চায়েত সদস্যারাও কাটমানি আর তোলাবাজীতে রীতিমত দক্ষ হয়ে উঠেছিল সেটাও স্পষ্ট হচ্ছে! দিনহাটা মহকুমার গিতালদহ-২ ও গোসানীমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন তৃণমূলের মহিলা পঞ্চায়েত সদস্যা মুক্তা রায়, রূম্পা রায় ও অনামিকা রায়ের বিরুদ্ধে কাটমানি ফেরানোর দাবিতে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার খবর মিলেছে থানা সূত্রে। তিন পঞ্চায়েত সদস্যার প্রত্যেকেই কয়েক লক্ষ টাকার কাটমানি তুলেছে। জমা পড়েছে সেই তালিকাও। মাথাভাঙা-১ ব্লকের হাজরাহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ ভাঙামোড়ের তৃণমূলের মহিলা পঞ্চায়েত সদস্যা শ্যামলী বর্মনও পঞ্চায়েত সদস্য হয়ে দেদার কাটমানি তুলেছেন পঞ্চায়েত সদস্য হয়েই। শালিশী করেও টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে এই সদস্যার বিরুদ্ধে। তাকেও ফেরাতে হচ্ছে কাটমানির টাকা। এতদিন যাদের সঙ্গী করে কাটমানি তুলেছিলেন শ্যামলী বর্মন সেই সঙ্গীরা উধাও হয়েছেন এলাকা ছেড়ে।

Comments :0

Login to leave a comment