editorial

এ যাত্রায় বেঁচে গেলেন ট্রাম্প

সম্পাদকীয় বিভাগ

ইরানি হামলার আশঙ্কায় বিশ্বের সর্বশক্তিমান দেশের সর্বশক্তিমান নেতার হাল এমন হয়েছে যে তাঁকে নিজের নির্ধারিত বিমান ছেড়ে গোপনে কার্যত পালিয়ে অন্য বিমানে চ‍‌ড়ে তুরস্ক ছেড়ে লন্ডনে পৌঁছে হাঁপ ছেড়ে বাঁচতে হয়েছে। গত মাসের গোড়ায় তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বসেছিল ন্যাটোভুক্ত দেশগুলির শীর্ষ বৈঠক। সেখানে সপার্ষদ হাজির ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত এবং সবদিক থেকে নিরাপদ এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে। সঙ্গে বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও, অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট, হোয়াইট হাউসের অতি উচ্চ পদস্থ স্টিফেন মিলার, স্টিভেন চেউঙ সহ অনেকে। ছিলেন সফরসঙ্গী অনেক সাংবাদিকও। তুরস্ক ইরানের প্রতিবেশী দেশ। ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের নাগালে। ইরানে মার্কিন হামলা, বিশেষ করে তাদের সর্বোচ্চ নেতা খোমেইনিকে হত্যার প্রতিশোধ নেবার হুমকি ইরান আগেই জানিয়ে রেখেছিল। ট্রাম্পকে হাতের কাছে পেয়ে তারা বদলা নিয়ে নিতে পারে এমন আশঙ্কায় তটস্থ ছিল ট্রাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিক্রেট ফোর্স। নিরাপদে আঙ্কারায় পৌঁছে শীর্ষ সম্মেলন সারলেও গোল বাধে ফেরার সময়। এয়ার ফোর্স ওয়ান আঙ্কারার আকাশে উড়লেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ধরে নিয়ে ট্রাম্পকে বাঁচাতে তড়িঘড়ি ছক বদলে ফেলা হয়।
সকলের চোখের সামনে সাংবাদিকরা এবং রুবিও, বেসেন্ট সহ হোয়াইট হাউসের পদস্থরা একে একে বিমানে উঠেছেন। উঠেছেন স্বয়ং ট্রাম্পও। বিমান যথারীতি লন্ডনে পৌঁছেছে। বিমান থেকে নেমেছেন সকলের সঙ্গে ট্রাম্পও। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো ট্রাম্প কিন্তু সেই বিমানের যাত্রী ছিলেন না। আঙ্কারা থেকে লন্ডনে ট্রাম্প পৌঁছেছেন অন্য একটি সামরিক বিমানে। সিক্রেট ফোর্সের নির্দেশে আঙ্কারায় ট্রাম্প সকলের চোখের সামনে বিমানে ওঠার পরই পেছন দিক দিয়ে তাঁকে ঢোকানো হয় খাবার সরবরাহকারী একটি কন্টেনারে। সেই কন্টেনার নিয়ে একটি ট্রাক চলে যায় অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা সামরিক বিমানের পেছন দিকে। সকলের অগোচরে কন্টেনার থেকে ট্রাম্পকে বার করে সেই বিমানে তোলা হয়।
এরপর ট্রাম্পকে নিয়ে লন্ডনে পৌঁছে যায়। ৯ মিনিট পর একই জায়গায় পৌঁছায় এয়ারফোর্স ওয়ান। আগের মতই কন্টেনারে ভরে ট্রাম্পকে গোপনে সামরিক বিমান থেকে তোলা হয় এয়ার ফোর্স ওয়ানে। তার পর সকলের সামনে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নেমে আসেন ট্রাম্প, সচিব ও সাংবাদিকরা। এ যাত্রায় বেঁচে গেলেন ট্রাম্প।
কিন্তু গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে ইরানের হামলা থেকে ট্রাম্পের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্তা ও সাংবাদিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়াকে ঘিরে। যদি ইরান সত্যি সত্যি ট্রাম্পকে হত্যা করতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে হামলা চালাতো তাহলে ট্রাম্প নিশ্চিতভাবে বেঁচে গেলেও তার সফরসঙ্গী সকলের মৃত্যু অনিবার্য হয়ে যেত।

Comments :0

Login to leave a comment