Iran-US Oil

ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা তুলছে আমেরিকা

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ উঠবে। ইরানে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়া হবে অর্থ। তার জন্য তৈরি হয়েছে তহবিল। নিজেদের তেল অন্য দেশে বিনা বাধায় বিক্রি করতে পারবে ইরান।
ইরান-আমেরিকা সমঝোতা হয়েছে এই শর্তেই। সমঝোতার বয়ান প্রকাশ না হলেও আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক সংবাদমাধ্যম এমনই দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্রের উল্লেখ করে। 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর একতরফা হামলা করে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। কিন্তু ইরান যে প্রবল প্রতিরোধ করবে তার বিন্দুমাত্র অনুমান ছিল না। ইরানের প্রতিরোধে কার্যত নাস্তানাবুদ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।  আমেরিকার মধ্যেই ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থন কমে গিয়েছে। চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের জেরে বিশ্বময় ছড়িয়েছে অর্থনৈতিক অস্থিরতা। 
আমেরিকারই একাধিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে যে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কারণে পুনর্গঠনের দাবি মেনে নিয়েছে আমেরিকা। পুনর্গঠনের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গড়া হবে। 
আরেকদিকে আমেরিকা আশ্বাস দিয়েছে যে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক স্তরে চাপানো সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। 
ইরানের বিদেশ মন্ত্রক দাবি করেছে যে দেশের পক্ষে সবচেয়ে কার্যকর শর্তই হাজির করা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়।
জানা গিয়েছে, ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বোঝাপড়ার ওপর সমঝোতা চূড়ান্ত করার বিষয়টি নির্ভর করছে। ইরান বরাবরই জানিয়েছে যে পরমাণু বোমা তৈরি লক্ষ্য নয়। অসামরিক কাজে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চলছে পরমাণু কর্মসূচি। ফলে এই কর্মসূচি আটকে দেওয়া যাবে না।
এদিকে সদ্য শেষ হওয়া জি-৭ বৈঠকের পর আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালির মতো দেশগুলির তরফে বলা হয়েছে যে সমঝোতার প্রাথমিক বোঝাপড়া ইতিবাচক। ‘ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে দূরে রাখতে সবচেয়ে কার্যকরী’ এই সমঝোতা। 
ভারতও ইরান থেকে তেল কিনত। আমেরিকার চাপেই ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করেছে ভারত। 
ইরান থেকে তেল কিনতে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ডলার বাধ্যতামূলকও ছিল না। তেল বিক্রি এবং অন্য আমদানির ওপর আমেরিকার চাপানো নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে প্রবল চাপে রেখেছে দীর্ঘদিন।
তেহরানে ইরানের জাতীয় আইনসভার অধ্যক্ষ মহম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ‘সমঝোতা সই হলে চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত হবে।’
আগামী শুক্রবার সুৎজারল্যান্ডে আমেরিকা-ইরান সমঝোতায় সই হওয়ার কথা।

Comments :0

Login to leave a comment