Basirhat

বসিরহাটে শ্যুট আউট, ভাইয়ের গুলিতে ভাইয়ের মৃত্যু

জেলা

আবারও শ্যুট আউট। ঘটনাস্থল সেই বসিরহাট। চোরকে মারধরে বাধা দেওয়ায় গুলি! ভাইয়ের গুলিতে ভাই খুন বসিরহাটে। বসিরহাট রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চুরির অভিযোগে ধরা পড়া এক যুবককে মারধরের প্রতিবাদ করায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হলো এক যুবকের। অভিযোগ, চোরকে মারধর করতে বাধা দেওয়ায় নিজের কাকার ছেলে ভাইয়ের ছোড়া গুলিতেই প্রাণ গেল প্রশান্ত শীল(২৩) নামে ওই যুবকের। মঙ্গলবার মাঝরাতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বসিরহাট রেল স্টেশন চত্বর সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনায় মৃতের কাকার ছেলে সূর্য শীল সহ চারজনকে আটক করেছে বসিরহাট থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবক প্রশান্ত শীলের বাড়ি বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। মঙ্গলবার রাত একটা নাগাদ স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এক যুবককে চুরির অভিযোগে ধরে ফেলেন কয়েকজন স্থানীয় যুবকরা। এরপর তাকে ঘিরে ধরে মারধর করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রশান্ত শীল। তিনি ওই যুবককে মারধর করতে বাধা দেন এবং তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। অভিযোগ, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশান্তের সঙ্গে তার কাকার ছেলে সূর্য শীলের বচসা শুরু হয়। চোরকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এরপর আচমকাই সূর্য শীল প্রশান্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। গুলি এসে লাগে প্রশান্তের বুকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
গুলির শব্দ ও চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রশান্তকে উদ্ধার করে দ্রুত বসিরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেই মতো কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় প্রশান্তের। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতের পরিবারে।
ঘটনার খবর পেয়ে বসিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালের পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে মৃতের কাকার ছেলে সূর্য শীল সহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং গুলি চালানোর পিছনে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চুরির অভিযোগে এক যুবককে আটক করা এবং তাকে মারধরকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ঘটনাস্থলে এল, কার কাছ থেকে সেটি এসেছিল এবং গুলি চালানোর সময় সেখানে আর কারা উপস্থিত ছিলেন। সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। ঘটনায় বসিরহাট স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার পিছনে পুরনো কোনও পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিবাদ ছিল কি না, নাকি ঘটনাস্থলের উত্তেজনা থেকেই আচমকা গুলি চালানো হয়, তা খতিয়ে দেখছে বসিরহাট থানার পুলিশ।

Comments :0

Login to leave a comment