HS

শ্রমিক বাবার মেয়ে বড় হয়ে পুলিশ হতে চায়

জেলা

বাবা পেশায় শ্রমিক। মা গৃহবধূ। সীমিত আয়ের সংসার। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় তাক লাগানো রেজাল্ট করে পরিবারের নাম উজ্জ্বল করলো মেয়ে। এবারের উচ্চ মাধ্যমিকে ৮৬.৬০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে মালবাজার ব্লকের  বড়দিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ফারজানা ফিরদৌস। ৪৩৩ নাম্বার পেয়ে  বিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সে। বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বর বাংলা -৮৩, ইংরেজি -৮৩, ভূগোল- ৮৬, ইতিহাস- ৯১, দর্শন- ৯০।  তার এহেন সাফল্যে খুশির হাওয়া পরিবার পরিজন সহ শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এলাকাবাসীর মধ্যে।
প্রসঙ্গত, ফারজানা মালবাজার ব্লকের কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভোটডাঙ্গা নিচ চালসা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা তাহিদুল ইসলাম আলিপুরদুয়ারে শ্রমিকের কাজ করেন। মা জান্নাতুন ফিরদৌস গৃহবধূ। তবে আর্থিক অনটনের সংসার হলেও মেয়ের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনও খামতি রাখেননি বাবা-মা।  ফারজানার এই সাফল্যের পিছনে মা, বাবা ও স্কুল ও  দুই গৃহ শিক্ষকদের বড় অবদান রয়েছে বলেই জানিয়েছে এই কৃতী পড়ুয়া।
গ্রামের মেঠো কাঁচা রাস্তা ধরে ফারজানার বাড়িতে পৌঁছাতে হয়। প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা এবং আর্থিক অনটনকে উপেক্ষা করেই নজর কাড়া ফলাফল প্রশংসনীয় বলেই মত এলাকাবাসীর। ফারজানা জানায়, ‘ভূগোল নিয়ে স্নাতক হতে চাই। আগামীর লক্ষ্য পুলিশ অফিসার হওয়ার। তারও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি।’ 
ফারজানা আরও জানায়, ‘পড়াশোনার নিয়মিত কোন রুটিন ছিল না। তবে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘন্টা পড়াশোনা করতাম।’ অবসর সময়ে সংবাদপত্র, গল্পের বই পড়েই সময় কাটায় ফারজানা। যদিও মেয়ের উচ্চ শিক্ষার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে সেই নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফারজানার পরিবার। ফারজানার মা জান্নাতুল ফেরদৌস জানালেন, ‘পরিবারে আর্থিক অনটন রয়েছে। কষ্ট হলেও মেয়ের উচ্চশিক্ষায় খামতি রাখবো না।’ স্নাতক স্তরের পড়াশুনার খরচ নিয়েও চিন্তিত ফারজানা এবং তার পরিবার।

Comments :0

Login to leave a comment