অনিল কুণ্ডু : বারুইপুর
মহিলাদের নিরাপত্তা, অধিকার বোধের স্বীকৃতির স্বার্থে নির্বাচনে তৃণমূল, বিজেপিকে পরাস্ত করতে হবে। শাসকের চোখে চোখ রেখেই বুথে বুথে মহিলা কর্মীদের লড়াই করতে হবে। মঙ্গলবার বারুইপুরে একথা বলেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কনীনিকা ঘোষ। মহিলা কর্মীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, মহিলাদের নিরাপত্তা, অধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্বনির্ভরতার কথা তুলে ধরতে হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী গড়ে তুলেই নতুন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটি আয়োজিত মহিলাদের এক কর্মশালায় তিনি বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন গণআন্দোলনের নেতা শমীক লাহিড়ী, সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা। প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন জেলা সম্পাদক চন্দনা বাগচী। কর্মশালা পরিচালনা করেন সংগঠনের জেলা সভানেত্রী মিলি চক্রবর্তী।
কনীনিকা ঘোষ আরএসএস, বিজেপির মনুবাদ নীতির প্রসঙ্গে বলেন, ওরা মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। গুজরাটে সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বিরোধীতা করছে বিজেপি। অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। মহিলাদের অধিকার বোধের স্বীকৃতিরদাবিতে বামপন্থীরা লড়াই করছে। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি লড়াই করছে। মহিলারা বিপদে। নিরাপত্তা নেই। মাইক্রোফিনান্সের ঋণের জালে ফাঁসছে। শ্রমজীবী মানুষের লড়াই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গোটা দেশের শ্রমজীবী মানুষ, মহিলাদের ধর্মঘট দেখিয়ে দিয়েছে লড়াই কাকে বলে। সারা দেশের এই লড়াই থেকে বামপন্থীরা ভরসা, সাহস পেয়েছে। রাজ্যে মানুষের দাবি নিয়ে আন্দোলন, লড়াইয়ের ময়দানে বামপন্থীরা রয়েছে। বাইনারী সরিয়ে দিয়ে এখন বামপন্থীদের কথা বলছে সংবাদ মাধ্যম। তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, লড়াইয়ের মধ্যে দিয়েই তৃণমূল, বিজেপির নীতিকে পরাস্ত করতে হবে। ওরা মানুষের জীবন জীবিকা, রুটিরুজির নীতির পরিবর্তে মন্দির, মসজিদ করতে চায়। পুঁজিপতিদের স্বার্থ রক্ষার নীতি নিয়ে চলা এই দুই শক্তিকে নির্বাচনে পরাস্ত করতে হবে। পরাস্ত করতে হবে শাসকের দুর্নীতি, লুট, মনুবাদ, বিভাজনের রাজনীতিকে।
শমীক লাহিড়ী লগ্নিপুঁজির উল্লেখ করে বলেন, তৃণমূল, বিজেপি সব এক সূত্রে বাধা। সারা পৃথিবী জুড়ে লগ্নিপুঁজি দক্ষিণ পন্থী শক্তির বিরুদ্ধেপ্রতিবাদ প্রতিরোধ লড়াই হচ্ছে। সরকারি ব্যবস্থাপণায় নিজেদের মুনাফা করছে পুঁজিপতিরা। আগে ছিল ধান্দার পুঁজিবাদ আর এখন লুটের পুঁজিবাদ। এদেশেও একই নীতি নিয়ে চলছে সরকার। নীচে লুট করছে ফঁড়ে দালালরা। উপরে আদানি আম্বানীরা। লুটের পুঁজিবাদকে সমর্থন করছে তৃণমূল, বিজেপি। ধনীদের ট্যাক্স কমছে সাধারণ মানুষের ট্যাক্স বাড়ছে। জিনিসপত্রর দাম বাড়ছে মজুরি কমছে। রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনেও এই দুই শক্তির পিছনে রয়েছে লুটের পুঁজিবাদ। মানুষের মধ্যে দ্বিধা সংশয় তৈরি করছে সংবাদ মাধ্যম। সংবাদ মাধ্যমের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে আদানি, আম্বানীরা। তৃণমূল, বিজেপি সরকারে থাকলে লুটের পুঁজি যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।
তৃণমূল, বিজেপিকে পরাস্ত করতে শ্রমজীবী, মধ্যবিত্ত, সাধারণ মানুষের জোট গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বামপন্থীদের নীতির কথা তুলে ধরতে হবে। মহিলাদেরদেড় হাজার টাকা ভাতাকে দশ হাজার টাকা করা হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সমবায়, বিপণন ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে মহিলাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা করতে চায় বামপন্থীরা। ভাতাকে কাজের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। ফড়ে দালালরাজ খতম করতে সমবায় গড়ে উৎপাদন ব্যবস্থা কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে। দুর্নীতি, নিরাপত্তা, শিক্ষা ব্যবস্থা নারী নিরাপত্তা, পঞ্চায়েতে বিকল্প সমবায় গড়ে তোলা হবে।
মোনালিসা সিনহা সংগঠনকে শক্তিশালী গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বুথে বুথে মহিলাদের সংগঠিত করতে হবে। মহিলাদের উপর আক্রমণ, নির্যাতন, শিশু, কিশোরী পাচারের বিরুদ্ধে মহিলা সমিতি লড়াই করছে। নির্যাতিতাদের পাশে আছে। মহিলাদের ঐক্যবদ্ধ করেই আন্দোলনের প্রসার ঘটাতে হবে। এদিনের কর্মশালায় কনীনিকা ঘোষ ও মোনালিসা সিনহাকে জেলা সংগঠনের তরফে সংবর্ধিত করা হয়।
AIDWA
শাসকের চোখে চোখ রেখেই বুথে বুথে লড়াইেয় আহ্বান বারুইপুরে মহিলাদের কর্মশালায়
×
Comments :0