Andhra Pradesh

দুধে বিষক্রিয়ায় অন্ধ্রপ্রদেশে মৃত ১৩

জাতীয়

অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব গোদাবরী জেলায় ভেজাল দুধ খেয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অসুস্থ আরও অন্তত সাত জন। তাদের মধ্যে তিনটি শিশুও রয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কিত স্থানীয় মানুষজন। জানা গেছে লালাচেরুভুর চৌদেশ্বরনগর এবং স্বরূপনগর এলাকার বাসিন্দারা একই বিক্রেতার থেকে দুধ নেন।
পূর্ব গোদাবরী জেলা শাসক কীর্তি চেকুরির বক্তব্য, ইথিলিন গ্লাইকল মেশানো দুধ খাওয়ার পর ২০ জনেরও বেশি ব্যক্তির তীব্র কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। তিনি বলেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি ভেজাল দুধ খাওয়া কেয়েকজনকে কিডনি সম্পর্কিত সমস্যার কারণে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২২ ফেব্রুয়ারি কাকিনাড়া সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদি কৃষ্ণভেণী(৭৬)’র মৃত্যুর পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে ওইদিন প্রথম সন্দেহ হয় গ্রামবাসীদের। ওইদিন বেশ কয়েক জন প্রবীণ ব্যাক্তিকে বমি, পেটব্যথার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, বাড়ি বাড়ি যে দুধ সরবরাহ করা হচ্ছিল, তা খাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। অসুস্থদের মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তাঁদের রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও। চিকিৎসকদের সন্দেহ, বিষক্রিয়ার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিক পরিক্ষা নিরিক্ষায় দুধকেই বিষক্রিয়ার উৎস হিসাবে চিহ্নিত করছেন আধিকারিকেরা। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকারই একটি ডেয়ারি ফার্ম থেকে আশপাশের গ্রামগুলির প্রায় ১০৬টি পরিবার দুধ নেয়। সন্দেহ করা হচ্ছে, সেখান থেকেই বিষক্রিয়া ছড়িয়েছে। অসুস্থদের রক্তের নমুনা, ভেজাল দুধ এবং দই, সেই সঙ্গে নরসাপুরমে গণেশ্বর রাওয়ের ভারলক্ষ্মী মিল্ক সেন্টারের দুধ, সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ফ্রিজার এবং সেখানে অন্যান্য উপকরণ ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি, রিজিওনাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং অন্যান্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল।
দুধে ভেজালের ঘটনায় অন্ধ্রপ্রদেশের স্বাস্থ্য দপ্তর গ্রামে চিকিৎসাশিবির খুলেছে। চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধিদল সেখানে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় মৃতের এক পরিবার রাজামুন্দ্রি ৩ টাউন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
জেলা শাসকের মতে, তদন্তে জানা গেছে, ৩৭ বছর বয়সী গণেশ্বর রাও ওরফে গণেশ কিছুদিন ধরে নরসাপুরম গ্রামের আশেপাশের ৪৩ জন কৃষকের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে তার বাড়িতে দুটি পাত্রে ফ্রিজে রেখেছিলেন এবং পরে ক্যানে ঢেলে শহরের চৌদেশ্বরনগর এবং স্বরূপনগর এলাকার বাসিন্দাদের কাছে পৌছে দিয়েছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় দুধ সরবরাহ বন্ধ করে। ডেয়ারি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এবং সিল করে দেয়। পুলিশ সন্দেহভাজন দুধ বিক্রেতা ৩৩ বছর বয়সী আদ্দালা গণেশ্বর রাওকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জেলা শাসক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ল্যাব থেকে পাওয়া রিপোর্ট এবং ফরেনসিক সহকারী অধ্যাপকের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে জানা গেছে বিষাক্ত ইথিলিন গ্লাইকলযুক্ত ভেজাল দুধ খাওয়ার কারণে তীব্র কিডনি খারাপ হওয়ার কারণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে দুধ বিক্রেতা গণেশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment