Election 2026 Maynaguri

নদীর জল নামলেও শুকোয়নি চোখের জল, ভোটের মুখে ক্ষোভে ফুঁসছে জলঢাকা পাড়ের মানুষ

জেলা

ক্যালেন্ডারের পাতায় দিন এগিয়েছে, নদীর জলও নেমেছে। কিন্তু জলঢাকা পাড়ের মানুষের চোখের জল আজও শুকোয়নি। গত ৫ অক্টোবরের সেই বিধ্বংসী বন্যা লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি আর ময়নাগুড়ির আমগুড়িকে। সেই ক্ষত আজও দগদগে। এর মধ্যেই বেজে গিয়েছে ভোটের বাদ্যি। আর নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ক্ষোভের পাহাড় জমছে বন্যা-বিধ্বস্ত এই জনপদে। এলাকার মানুষের সাফ কথা— ভোট চাইতে প্রার্থীরা গ্রামে এলেই এবার কড়ায়-গণ্ডায় হিসেব বুঝে নেওয়া হবে।
গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের হোগলাপাতা, কুল্লাপাড়া বা বগরিবাড়ির অবস্থা আজও শোচনীয়। একই ছবি ময়নাগুড়ির তারারবাড়ি ও খাটেরবাড়িতে। ঘর হারানো তারারবাড়ির শ্যামল দাসের গলায় ঝরে পড়ল তীব্র ঘৃণা। তিনি বলেন, “বিধায়ককে পাশে পাইনি। শাসকদলের নেতারাও শুরুতে কয়েকবার মুখ দেখিয়ে পরে আর খোঁজ নেননি।” গ্রামবাসী শশধর অধিকারীর হুঁশিয়ারি, “প্রচারে এলেই নেতাদের ঘিরে ধরা হবে। বন্যার সময় রাজ্য ও কেন্দ্রের দুই শাসক দলই আশ্বাসের বন্যায় ভাসিয়েছিল, কাজে কিছুই হয়নি।”
গৃহবধূ যুথিকা রায় বঞ্চনার চোটে ভোট দিতে যাওয়া নিয়েই সন্দিহান। মালতি অধিকারী বা সুমনা অধিকারীরাও প্রশ্ন সাজিয়ে রেখেছেন নেতাদের জন্য। গধেয়ারকুঠির ক্ষতিগ্রস্ত পরাণ মন্ডল অভিযোগ করেন, “আজও বাঁধ তৈরি হলো না কেন, প্রশাসন জবাব দিক।” স্থানীয় বাসিন্দা শান্তি নাগের অভিযোগ আরও তীক্ষ্ণ। তিনি বলেন, “তৃণমূল সামান্য ত্রাণ দিয়েই দায় ঝেড়ে ফেলেছে, আর বিজেপি নেতাদের তো খুঁজেই পাওয়া যায়নি।”
বাস্তব চিত্রটা ভয়াবহ। হোগলারটারি এলাকার ২০টি পরিবার আজও অন্যের বাড়িতে দিন কাটাচ্ছে। ঘর তৈরির প্রথম কিস্তির সামান্য টাকা পেলেও সেই টাকা চিকিৎসা আর খাবার কিনতেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এলাকায় পানীয় জলের তীব্র সংকট। ভাঙা রাস্তাগুলো সারাই করার ন্যূনতম সদিচ্ছা দেখায়নি প্রশাসন।
বন্যার সেই কঠিন সময়ে গধেয়ারকুঠির হোগলারটারিতে একটানা দু-মাস রান্নাঘর চালিয়ে মানুষের অন্নসংস্থান করেছিলেন বামপন্থী কর্মীরা। সেই লড়াকু উদ্যোগের অন্যতম কাণ্ডারি নিরঞ্জন রায় এবার এই বিধানসভা কেন্দ্রে বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী। ভোটের ময়দানে লড়াই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ​"বিপর্যয়ের দিনে তৃণমূল বা বিজেপি কাউকেই সাধারণ মানুষ পাশে পায়নি। ঘরহারা মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে আমরাই দিনরাত এক করেছিলাম। আজও মানুষের ক্ষোভ সঙ্গত। বাঁধ মেরামত থেকে পুনর্বাসন— সব ক্ষেত্রেই শাসকেরা ব্যর্থ। আমরা কেবল ভোট চাইতে আসছি না, আমরা সারা বছর মানুষের যে লড়াইয়ে পাশে ছিলাম, সেই অধিকারের দাবি নিয়েই মানুষের দুয়ারে যাচ্ছি।"

Comments :0

Login to leave a comment