হরিয়ানার গুরুগ্রামের গ্লোবাল সোসাইটির সিধরাওয়ালি এলাকায় নির্মীয়মাণ পাঁচিল ভেঙে অন্তত সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও তিনজন শ্রমিক। সোমবার সন্ধ্যার সেই ভাঙা পাঁচিলের নীচে চাপা পড়া জখম শ্রমিকদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত ও আহতদের রাজস্থানের ভিওয়াড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে বিলাসপুর পুলিশ এবং এসডিআরএফ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আশঙ্কা করা হচ্ছে যে এখনও কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে আছে। উদ্ধারকারী দল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করছেন। ঘটনার পর ঘটনাস্থলে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গ্লোবাল সিগনেচার সোসাইটিতে কাজ চলছিল। সোমবার রাত ৮টা নাগাদ হঠাৎ একটি দেয়াল ধসে পড়ে ১০ জন শ্রমিক চাপা পড়ে যান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য শ্রমিকরা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করে।
তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা সাত শ্রমিক পরমেশ্বর, মঙ্গল, মিলন, ভাগীরথ, সতীশ, শিব শঙ্কর এবং ছোটেলালকে মৃত ঘোষণা করেন। শিবকান্ত, দীন দয়াল এবং ইন্দ্রজিৎ গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত এবং আহত শ্রমিকরা উত্তরপ্রদেশ এবং নেপালের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বিলাসপুর থানার আধিকারিক সুনীল কুমার জানিয়েছেন বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় শ্রমিকদের মতে, সোসাইটির চত্বরে একটি গভীর গর্ত করা হয়েছিল। জানা গেছে যে খননকাজটি প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট গভীর ছিল। গর্তের ভিতরে উঁচু একটি প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল। সোমবার রাতে শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছিলেন। সোমবার রাত পৌনে আটটা নাগাদ হঠাৎ একটি বড় কংক্রিটের দেওয়াল ভেঙে পড়ে। সাথে সাথে প্রচুর পরিমাণে মাটিও ধসে পড়ে, যার ফলে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়। শ্রমিকরা সম্পূর্ণরূপে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়। জানা গেছে কাঁদা মাটির চাপ কিছু শ্রমিকের শরীরে লোহার রডও ঢুকে গিয়েছিল। স্থানীয় শ্রমিক এবং পথচারীরাই প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক সোমপ্রকাশ যাদব জানিয়েছেন, কিছু শ্রমিক দীর্ঘ সময় ধরে কাদার মধ্যে আটকে ছিল। তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনেককে বাঁচানো যায়নি। হাসপাতালে পরীক্ষার পর সাতজন শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে, অন্য আহতদের চিকিৎসা চলছে।
Gurugram Wall Collapse
হরিয়ানায় পাঁচিল ভেঙে ৭ শ্রমিকের মৃত্যু
×
Comments :0