অনিন্দিতা দত্ত শিলিগুড়ি, তপন বিশ্বাস ইসলামপুর
শারদ উৎসবকে কেন্দ্র করে সিপিআই(এম) রাজ্যের নানা প্রান্তে বইয়ের স্টল দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিজেপি আশ্রিত গুন্ডাদের লেলিয়ে দিয়ে সেই সব মার্কসীয় ও প্রগতিশীল পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র ভাঙচুরের প্রলয় নৃত্য চালিয়ে যাচ্ছে সঙ্ঘ পরিচালিত বিজেপি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়িতে সিপিআই(এম)'র বুকস্টলে হামলার পরিকল্পনা করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। শিলিগুড়ি অনিল বিশ্বাস ভবনের সামনে পার্টির বুকস্টলে হামলা চালায় আরআরএসের দুষ্কৃতী বাহিনী। যদিও পার্টি কর্মী সমর্থকদের প্রতিরোধে দুষ্কৃতীরা পিছু হটে। বাকবিতণ্ডায় চলে বাম কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে বিজেপি দুষ্কৃতীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিলকার্ট রোডে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পৌঁছায়। বুকস্টল ঘিরে রাখে পুলিশ।
বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বুকস্টলে হামলা চালানোর ঘটনায় জেলা সিপিআই(এম) বলেন, রাজ্যের বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকারই যেন বামপন্থীদের বুকস্টল আটকানো।
ইসলামপুরে বুক স্টল।
এদিন সন্ধ্যায় ইসলামপুরে সিপিআই(এম)'র বুক স্টলে হামলা, ভাঙচুরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে।
দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা নেতৃত্ব।
জানা গেছে প্রথম দু’দিন বই বিক্রিতে ভালো সাড়া মিললেও নবমীর সন্ধ্যায় হামলা ও ভাঙচুর করে ইসলামপুরে সিপিআই(এম)'র বুক স্টলে। সন্ধ্যা সাড়ে আটটা নাগাদ ইসলামপুর বাস টার্মিনাস সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে মার্কসীয় ও প্রগতিশীল পুস্তক বিপণন কেন্দ্রের স্টলে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই হামলার জন্য বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দায়ী করেছে দল। ঘটনায় শিক্ষক নেতা জয়ন্ত দে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা স্বপন গুহ নিয়োগী এবং ইসলামপুর এরিয়া কমিটির সম্পাদক আব্দুল করিমকে শারীরিকভাবে নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে ইসলামপুরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বুক স্টল হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এই বুক স্টলকে কেন্দ্র করে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুধু ইসলামপুর নয়, রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও মার্কসীয় ও প্রগতিশীল বইয়ের স্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছে দল।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সিপিআই(এম) নেতা রঘুপতি মুখার্জী বলেন, “পুলিশের প্রচ্ছন্ন মদতে এই আক্রমণ হয়েছে। শান্ত ইসলামপুরকে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।” অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন। সিপিআইএম নেতৃত্বের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের একের পর এক বুকস্টলে হামলা চালাচ্ছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তবুও প্রতিরোধ হচ্ছে, ভাঙা স্টল নতুন করে সাজিয়ে বামপন্থীদের বই বিক্রির ঘটনা অব্যাহত থাকছে। কারণ বইয়ের সঙ্গে শত্রুতা করে কেউ কোনওদিন জ্ঞানের দরজা বন্ধ করতে পারেনি। বই পোড়ানো যায়, বই ছেঁড়া যায়, বুক স্টল ভাঙা যায়—কিন্তু মানুষের পড়ার ইচ্ছা আর প্রশ্ন করার অধিকারকে এভাবে শেষ করা যায় না। বই নষ্ট করবেন না, বই পড়ুন। যুক্তির মোকাবিলা যুক্তি দিয়ে করুন, হিংসা দিয়ে নয়।
Comments :0