ছুটির কলকাতা, রবিবারের কলকাতা আবার দেখল যৌবনের অদম্য তেজ, হার না মানা জেদ। শাসক ও তাদের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের রক্ত চক্ষুকে হেলায় তুচ্ছ করে কল্লোলিনী কলকাতাকে ভাসিয়ে দিয়েছে যৌবনের স্রোত। শত সহস্র কণ্ঠের স্লোগান আর সুশৃঙ্খল পদচালনায় মুখরিত মিছিলে কলকাতা হয়ে উঠেছে যথার্থই মিছিল নগরী। শহীদ ভগৎ সিংয়ের মহান উত্তরাধিকারকে বহন করে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত নওজওয়ান ভারতের শতবর্ষে তাঁরই তোলা ইনকিলাব স্লোগানকে কণ্ঠে ধারণ করে শহর কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে ইনকিলাব সমাবেশকে যৌবনের সমুদ্রে রূপান্তরিত করেছে এ রাজ্যের যুব সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ডিওয়াইএফআই।
চার বছর আগে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে চোর, লুটেরা, গুন্ডাদের রাজেত্ব ঠিক এই দিনে রাজ্যজুড়ে ইনসাফ যাত্রার শেষে ইনসাফ সমাবেশ হয়েছিল ডিওয়াইএফআই’র ডাকে। যৌবনের মহাপ্লাবনে সেবার ভেসে গিয়েছিল ধর্মতলা চত্বর। রাজ্যে পালা বদলের পর এবারও সেই ধর্মতলা চত্বরকে মানব সমুদ্রে পরিণত করে যুব সমাজ বুঝিয়ে দিয়েছে সরকার বদলালেও নীতি বদলায়নি। বদলায়নি শাসকের চরিত্রও। তাই তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও যুব সমাজ তাতে আস্থা রাখতে পারছে না। সব পেটে ভাত, সব হাতে কাজ এবং সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের দাবিকে সামনে রেখে যুব সমাজ বেশি বেশি করে জড়ো হচ্ছে ডিওয়াইএফআই’র আপসহীন সংগ্রামী ছাতার তলায়। যাদবপুর সহ রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজ যেমন হিন্দুত্ববাদী অন্ধভক্ত এবিভিপি’র সঙ্গে নেই তেমনি ইনকিলাব সমাবেশ প্রমাণ করেছে যুব সমাজ শাসকদের সঙ্গে নেই।
সমাবেশ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যেসব প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে চার মাস কেটে গেলেও তার ধারে কাছেও নেই সরকার। তার বদলে গরিব মানুষের উপর একের পর এক অমানবিক অত্যাচার নামিয়ে এনেছে। দায়িত্বভার নিতে না নিতেই বুলডোজার নামিয়ে শুরু হয় হকার উচ্ছেদ। হাজার হাজার পরিবারের পেটে লাথি মেরে তাদের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়া হয়। গৃহহীন অসহায় গরিব মানুষকে উচ্ছেদ করা হয় ফুটপাত থেকে। মুসলিম অধ্যুষিত ব্যসক্তি কলোনিতে জল বন্ধ করা হয়। ক্ষমতায় এসেই গরিব মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দেয়। কথা ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। বদলে নতুন ধরনের গুন্ডারাজ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে পুলিশের সহায়তায়। নতুন শিল্প, নতুন কাজ সৃষ্টিতে মন নেই। ধর্মের নামে হিংসা-বিভেদ-বিভাজনই অগ্রাধিকার। জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। দায় নেই। বেকার বেড়েই চলেছে। মজুরি লজ্জাজনকভাবে কম। শিক্ষা ব্যবস্থাটাই চৌপাট করে দেবার তৃণমূলী উত্তরাধিকার স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছে নতুন সরকার। শিক্ষক-কর্মী নিয়োগের কোনও উদ্যোগ নেই। স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ত সুলভ হুঙ্কার, ভয় দেখানো, আতঙ্ক তৈরি করা চলছেই। মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করছে না। নিজেদের রাজাধিরাজ ভাবছে। মানুষকে মনে করছে ক্রীতদাস। গণতন্ত্র, সংবিধানকে বর্জন করে হিটলারি শাসন কায়েম করতে চাইছে। যুব সমাজ এসব পছন্দ করে না। তারা কাজ চায়, শিক্ষা চায়। স্বাধীনভাবে বাঁচতে চায়। শাসকের দাসত্ব তারা মানবে না। নতুন সরকারকে তারা আগামী হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বেশিদিন তারা এসব বরদাস্ত করবে না।
Youth Rally Kolkata
যৌবনের ঢল রুধিবে কে
×
Comments :0