Bomb blast in Paikpara

পাইকপড়ায় বোমা-বিস্ফোরণ, প্রতিবাদে মিছিল সিপিআই(এম)'র

কলকাতা

প্রতিকী ছবি

বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো খোদ কলকাতা। শনিবার সকালে কলকাতার পাইকপাড়া অঞ্চলের একটি বন্ধ ক্লাবে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত  এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলেই জানায় পুলিশ। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই পুলিশে খবর দেন। বিস্ফোরণের ঘটনা সহ পাইকপাড়ায় অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শনিবার সন্ধ্যা ৭ টায় প্রতিবাদ মিছিল করবে  সিপিআই(এম)। 
পাইকপাড়ার গাঙ্গুলিপাড়া এলাকার রয়েছে ‘যুবশক্তি’ নামে একটি ক্লাব। সেই ক্লাবেই এদিন সকাল ৬ টা নাগাদ পরপর তিনটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ওই ক্লাবের টিনের চাল উড়ে পাশের একটি ছয়তলা বাড়ির ছাদে গিয়ে পরে। ক্লাবে আগুন ধরে যায়, দমকল এসে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গোটা ঘটনার তদন্ত করছে চিৎপুর থানার পুলিশ। 
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বন্ধ ক্লাবের মধ্যে থেকে ছয়টি বোমা উদ্ধার করে হয়েছে। তারমধ্যে তিনটি বোমা ফেটে গিয়েই বিস্ফোরণ ঘটেছে। আমরা বম্বস্কোয়াড কে খবর দিয়েছিলাম, তারা এসে বোমা গুলিকে নিষ্ক্রিয় করেছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে সংগ্রহ করা হয়েছে, কারা, কি উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।"  

ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় বিস্ফোরণের তীব্র শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে লোকজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। পরে যদিও পুলিশ ঘটনাস্থলটি ঘিরে ফেলে।

এই ঘটনায় সিপিআই(এম) কলকাতা জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য প্রতীপ দাসগুপ্ত বলেন, " পাইকপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে আলাদা করে দেখার কোনো কারণ নেই। আসলে আজ গোটা বাংলাজুড়েই যে বোমার ভান্ডার তৈরি হয়েছে, পাইকপাড়া তারই একটি প্রতিফলন মাত্র। পাড়ার ক্লাবগুলো কি আজ দুষ্কৃতকারীদের ঘাঁটি হয়ে ওঠেনি? ভোট এলেই ক্লাবে টাকা ঢোকে। আর সেই টাকার বড় অংশ খরচ হয় মোচ্ছবের আড়ালে বোমা, গুলি আর পিস্তলের পেছনে। পরে সেই অস্ত্রই আবার রাজনীতির নামে ব্যবহার হয়, আর তাতেই “মা-মাটি-মানুষ” হওয়ার গল্প লেখা হয়।
বিজেপিও সুযোগ বুঝে দুষ্কৃতকারী দের সঙ্গে নিয়ে এলাকার দখল নিতে চাইছে। সুতরাং পাইকপাড়ার এই বোমা বিস্ফোরণ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এটা দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, দখলদারি রাজনীতি এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অবধারিত পরিণতি।" 
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,  "ভোর প্রায় ছটা পনেরো নাগাদ আচমকা প্রবল শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বেরিয়ে এসে তাঁরা দেখতে পান পাশের বাড়ির দিকে আগুনের শিখা উঠছে। তাঁর বক্তব্য বছরের পর বছর ধরে মানুষ ওই ক্লাবে যাতায়াত করেনা, তাই ওই ক্লাবকে দুষ্কৃতীরা তাদের আঁতুর ঘর বানিয়ে রেখেছে। এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করার জন্যই এই কাজ করছে।"
 

Comments :0

Login to leave a comment