Namami Gange CAG

‘নমামি গঙ্গে‘: প্রচারে জাঁক হলেও ফাঁক কাজে, বলছে সিএজি রিপোর্ট

জাতীয়

গঙ্গা ভক্তি দেখিয়ে ভোট কুড়ানো হলেও নদীর পরিস্রুত রাখার কাজে ডাহা ফেল বিজেপি। উত্তরাখণ্ডে ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের হাল হকিকৎ খতিয়ে দেখে বিরক্তি উগরে দিল সিএজি রিপোর্ট।
সরকারি ব্যয়ের নজরদারি প্রতিষ্ঠান কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জোরেল (সিএজি) নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রিত্বে সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলার মতো রিপোর্ট দেয় না মোটেই। তবু তার মধ্যেই উত্তরাখণ্ডে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা সরকার বরাদ্দ ব্যবহারে চরম অপদার্থতা নথিভুক্ত করেছে রিপোর্ট।
‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পে মোদীর ছবি দিয়ে ছাপানো বিজ্ঞাপনে ভক্তিরসকে বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। তার সঙ্গে ধর্মীয় পরম্পরা এবং সরল ভক্তিকে ভোটের জন্য ব্যবহারের বহু ঘটনাই দেখা গিয়েছে। তবে সিএজি রিপোর্ট বলছে হিমালয়ের পাদদেশে উত্তরাখণ্ডে বিজেপি-রই সরকার কাজের কাজ কিছু করেনি।
নিকাশি নালার মাধ্যমে যে বর্জ নদিতে মেশার আগে তার পরিশোধন হওয়ার কথা। এমন ৪৪টি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৫টি কাজের কাজ করার মতো। সিএজি রিপোর্ট বলছে, জাতীয় পরিবেশ ট্রাইবুনাল নিকাশির বর্জ ব্যবস্থাপনার কারিগরি মান বেঁধে দিয়েছে। সেই মান অনুযায়ী হয়েছে মাত্র ৫টি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। বাকিগুলি অযোগ্য।
উত্তরাখণ্ডে ধর্মীয় পর্যটনের বহু এলাকা রয়েছে। চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, তেহরি বা উত্তরকাশির মতো জেলা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। আবার রয়েছে স্থানীয় বসতি। প্রকল্প অনুযায়ী শবদাহের জন্য আধুনিক প্রকৌশলে শ্মশান বানানোর কথা। ১১টি জায়গায় তেমন শ্মশান হলেও স্থানীয়েরা কমই ব্যবহার করেন। তাঁদের সচেতন করা হয়নি। ফলে নদীর ঘাটে কাঠে শবদেহ দাহ করা এবং তার ফলে গঙ্গা দূষণ চলছে। 
রিপোর্টে বলা হয়েছে গঙ্গা অববাহিকার কোনও জেলায় নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি। ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের অন্যতম অংশ হলো নদীকে রক্ষা করার কাজে স্থানীদের সচেতন করে যুক্ত করা। কিন্তু রাজ্যের ব্যর্থতায় তা একেবারেই হয়নি। 
উত্তরাখণ্ডে এই প্রকল্পে ২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু রাজ্যের বাজেটেই নানা গরমিল ধরা পড়েছে।
ঘটনা হলো, এই পর্বে রাজ্যের সরকার চালিয়েছে বিজেপি।  
উল্লেখ্য, গঙ্গা পরিশোধনে মোদী সরকারের মেয়াদেই প্রকল্প চালু হয়েছে তা মোটেই নয়। তবে মোদীর সময়ে প্রকল্প ঘিরে প্রচার হয়ে ব্যাপকমাত্রায়। কেবল উত্তরাখণ্ড নয়। অন্য রাজ্যেও প্রকল্পের কাজ ঘিরে সমালোচনা রয়েছে। মোদী সরকার যদিও দায় কেবল সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

Comments :0

Login to leave a comment