'উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি বলছে বই বিক্রি করতে দেবে না, মার্কসবাদের প্রচার করতে দেবে না' কীভাবে আটকাতে পারে বই বিক্রি তা দেখতে মাঠে নেমে পড়লেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি। টোটো নিয়ে মাইক হাতে প্রচার এবং বই বিক্রি করলেন ঘুরে ঘুরে। নাম 'চলমান পত্রিকা প্রচার কেন্দ্র'।
শনিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১.৩০ টা পর্যন্ত উখড়া এবং পান্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের একটি করে পঞ্চায়েত এলাকা একদিন ঘুরেই বিক্রি করেছেন ৪০ হাজার টাকার বই। অগ্রিম বুকিং করছেন মার্ক্স-গ্রামসির বই। শুধু মধ্যবয়স্করাই না, তরুণ কিশোরেরাও বই কিনছেন। উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরি থেকে রবীন্দ্রনাথ, মার্কসীয় অর্থনীতি থেকে বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিক উপন্যাসের সমস্ত সম্ভার মানুষ কিনেছেন। গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জির কথায়, যা বই এনেছিলাম সব বিক্রি হয়েছে। আবারও বেরোবো, প্রয়োজনে ছাতা নিয়ে বসবো কথাও ত্রিপল পেতে। আসলে মার্কস শিখিয়েছেন, সিনা টান করে লড়াই করতে। চারদিকে যেভাবে বুকস্টল ভাঙচুর করা আর একইসঙ্গে যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে উঠছে তাতে একথা স্পষ্ট যে জ্ঞানের সঙ্গে লড়াই করার মানসিকতাও শেখায় মার্কসবাদ। তাই এই তত্ব-জ্ঞানের প্রসারের পাশাপাশি লড়াই করার সাহসটাও ছড়িয়ে দিতে হবে।
এদিকে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বিজোনের নিউটন- মার্কিন মোড়ে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার জমিতে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার কর্মীদের বানানো ২৫-৩০ বছরের ঐতিহ্যের বুক স্টল ভেঙে দিয়ে বই সমেত তালা বন্দী ট্রাঙ্ক পিছনের নালায় ফেলে এই বিজেপির দুষ্কৃতীরা। সিপিআই(এম) দুর্গাপুর ইস্পাত-১ এরিয়া কমিটি আয়োজিত এই স্টলের সমস্ত চেয়ার টেবিল ভেঙে পিছনের নালায় ফেলে, ফ্ল্যাগ- ফেস্টুন ছিঁড়ে পিছনের নালায় ফেলে দেয়। টিউবলাইট ভেঙে পেছনের নালায় ফেলে দেয়। সিপিআই(এম) নেতৃত্ব বলছেন যে
পাশেই রয়েছে সরকারি সিসিটিভির-ক্যামেরা। অর্থাৎ পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা কোনো কঠিন কাজ নয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও রেকর্ডিং করছিলেন বলে তাঁকে মেরে ফোন ভেঙে দিয়েছে!
সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি গতকাল, ১৭ অক্টোবর, সন্ধ্যায় এই বুক স্টলের উদ্বোধন করেন। ভাঙা স্টলের সামনেই রবিবার, সন্ধে ৬.৩০টায় ফের চালু হবে বই বিক্রি।
Durgapur Book Stall
দুর্গাপুরে চালু হচ্ছে ভাঙা বুক স্টল, টোটোয় ঘুরে বই বিক্রি জেলা সম্পাদকের
দুর্গাপুরে ভেঙে দেওয়া বুক স্টল।
×
Comments :0