জনবিন্যাসে ‘অস্বাভাবিক‘ পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে কমিটি গড়ল কেন্দ্র।
মঙ্গলবার এই কমিটি গঠনের ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ‘‘অনুপ্রবেশ এবং অস্বাভাবিক জনবিন্যাস পরিবর্তনের কারণে দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পক্ষে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা জন্যও স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী জনবিন্যাসের পরিবর্তন দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছিলেন।’’
জনবিন্যাসে ‘অস্বাভাবিক‘ পরিবর্তনের এই দাবির ভিত্তি কী, তা ব্যাখ্যা করেননি অমিত শাহ। কারণ এই সরকারের সময়ে কোনও জনগণনাই হয়নি। কোভিডের কারণ দেখিয়ে ২০২১’র জনগণনা আটকে দেয় মোদী সরকার। অথচ সেই সময়েই একাধিক রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে। তবে জনগণনা যে দপ্তর করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেরই অধীন সেই রেজিস্ট্রার জেনারেল পরিচালিত স্যাম্পল রেজিস্টরেশন সিস্টেম জানিয়েছে দেশে প্রজনন হার ১.৯ শতাংশে নেমে গিয়েছে।
অমিত শাহ জানিয়েছেন যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের অধীন এই কমিটিতে সেন্সাস কমিশনার থাকবেন। অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, বালাজী শ্রীবাস্তব, ডঃ শমীকা রবি থাকবেন উচ্চ পর্যায়ের কমিটিতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিদেশি-ট বিভাগের যুগ্ম সচিব এই কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন।
কমিটি জনবিন্যাসের নামে গঠিত হলেও তার আসল লক্ষ্য অনুপ্রবেশ ঘিরে বিভিন্ন তথ্য হাজির করা। লক্ষ্যণীয়, বিজেপি রাজনৈতিক স্তরে এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে ভোট লড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে সরকারে আসীন হয়ে বিজেপি সব জেলায় আটক কেন্দ্র বা হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদার মতো জেলায় হোল্ডিং সেন্টারে কয়েকজনকে বন্দি করা হয়েছে। তবে আইন মাফিক বিদেশি আইনে অভিযুক্ত করে তাদের বিচারব্যবস্থার সামনে হাজির করা হচ্ছে না।
উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে অমিত শাহ বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অস্বাভাবিক কারণে জনবিন্যাস কোথায় কিভাবে পরিবর্তন হয়েছে তা দেখবে এই কমিটি।
তিনি বলেছেন, সামাজিক এবং ধর্মীয় অংশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অস্বাভাবিক কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। তার কারণ বিশ্লেষণের পাশাপাশি সমাধানের সুপারিশও করবে কমিটি।
জনবিন্যাস সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরই প্রশ্ন তুলেছিল সিপিআই(এম)। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য যে আসলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু মুসলিমদের ঘিরে বিদ্বেষ তৈরির আরেকটি কৌশল, বলা হয়েছিল সে কথা।
উল্লেখ্য, প্রজনন হার সংক্রান্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে জনসংখ্যা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’ ধরা হয় ২.১। অর্থাৎ প্রতি দম্পতির গড়ে দুইয়ের সামান্য বেশি সন্তান জন্ম নিলে একটি প্রজন্ম পরবর্তী প্রজন্ম দ্বারা সংখ্যাগতভাবে প্রতিস্থাপিত হয়। ভারতের ক্ষেত্রে সেই হার এখন তার নিচে নেমে গিয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দেশের অধিকাংশ রাজ্য ইতিমধ্যেই এই সীমার নিচে চলে গিয়েছে।
ব্যতিক্রম মাত্র ছয়টি উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্য। এই রাজ্যগুলি হলো; বিহার, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড়।
এই ছয় রাজ্যের চেয়ে কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমের অংশ বেশি হলেও প্রজনন হার কম। আর হিন্দি বলয়ে এই ছয় রাজ্যেই বিভিন্ন সময়ে সরকারে আসীন থেকেছে বিজেপি। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চাষও গোড়া থেকে হয়েছে মুখ্যত এই রাজ্যগুলিতেই।
এই ছয় রাজ্যের মধ্যে বিহারে প্রজনন হার এখনও সর্বোচ্চ, প্রায় ২.৯ থেকে ৩.২-এর মধ্যে। উত্তর প্রদেশে তা ২.৬ থেকে ২.৯, মধ্য প্রদেশে প্রায় ২.৭, রাজস্থানে ২.৫ থেকে ২.৭, ঝাড়খণ্ডে ২.৫ এবং ছত্তিশগড়ে ২.৪।
Demographic Committee
প্রজনন হার কমলেও 'জনবিন্যাসে অস্বাভাবিকতা' খুঁজতে কমিটি কেন্দ্রের
×
Comments :0