হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। তার বদলে ভোজশালা-কামাল মওলা চত্বরের বাইরে মুসলিমদের শুক্রবার করে নমাজের জন্য খোলা মাঠের ব্যবস্থা করতে বলেছে কেবল। এই নির্দেশ দুঃখজনক।
মধ্য প্রদেশের ভোজশালা-কামাল মওলা বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি।
গতকাল, মঙ্গলবার, এই মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। মধ্য প্রদেশ হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হয় আবেদন। মধ্য প্রদেশ হাইকোর্টের রায়ে বলা হয় যে বিতর্কিত চত্বরে সরস্বতী মন্দির ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সেই আবেদনের ভিত্তিতে শুনানিতে রাজি হয়েছে।
বেবি বলেছেন, চূড়ান্ত রায় ঘোষণার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের উচিত ১৯৯১ সালের উপাসনা স্থল আইনকে বিবেচনায় রাখা। দেশজুড়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থল ঘিরে বিবাদ বাঁধানোর উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো বিপদের মধ্যে পড়ছে।
উল্লেখ্য, উপাসনা স্থল আইনের মূল বক্তব্য হলো স্বাধীনতার পর ভারতে বিভিন্ন উপাসনা স্থলের ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।
গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতেও আবেদনকারীদের পক্ষে উপাসনা স্থল আইনের উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয় যে বারবার এমন বিবাদ যাতে মাথাচাড়া না দেয় তার জন্যই করা হয়েছিল ওই আইন।
আবেদনকারীদের পক্ষে বলা হয়েছে যে মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরির পক্ষে যে যুক্তি দেখানো হয়েছে তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন রয়েছে। সেগুলি বিবেচনা না করে নির্মাণের ধর্মীয় চরিত্র সম্পর্কে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণ এএসআই-কে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কাঠামোর পরিবর্তন করা যাবে না।
এদিকে বুধবার প্রাক্তন বিচারপতি শ্রীনিবাসন মুরলীধরের সঙ্গে দেখ করেন বেবি এবং সিপিআই(এম)’র প্রবীণ নেত্রী বৃন্দা কারাত। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত কমিশনার তিনি।
প্যালেস্তাইনে দখলদারির তদন্তে তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীন আন্তর্জাতিক কমিশন গড়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। এই কমিশন রিপোর্টে জানায় যে ২০২৩’র ৭ অক্টোবরের পর থেকে ২০ হাজারের বেশি শিশুকে হত্যা করেছে ইজরায়েলের সেনা।
M A Baby Bhojshala
বিবেচনায় রাখতে হবে উপাসনা স্থল আইনকে, ভোজশালা মামলায় বললেন বেবি
×
Comments :0