Double Murder

বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীতে জোড়া খুন!

রাজ্য জেলা

অষ্টমীর রাতে হাড়হিম করা জোড়া হত্যাকাণ্ডে কেঁপে উঠল বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী। স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে তাঁর কাটা মুণ্ডু মন্দিরে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। এখানেই থেমে না থেকে বাবাকেও নৃশংসভাবে খুন করে সে। বাড়ির উঠোন থেকে উদ্ধার হয়েছে বৃদ্ধ বাবার রক্তাক্ত দেহ। জোড়া খুনকে ঘিরে গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে 'নরবলি'র উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
সোমবার সোনামুখী থানা এলাকার দামোদর নদ সংলগ্ন 'লালবাবা মানা' চরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম মঙ্গল চৌধুরী, পেশায় সে একজন কৃষক বলে জানা গেছে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও মানুষের মনে দানা বেঁধে রয়েছে কুসংস্কার। আর তার প্রভাব যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার প্রমাণ মিলেছে বাঁকুড়ার সোনামুখীর দামোদর গ্রামে। নিজেদের বাড়ির কালী মন্দিরে জোড়া নরবলি দিয়েছেন বাড়ির বড়ো ছেলে।
অভিযুক্ত সোমবার রাতে আচমকাই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার নিজের স্ত্রী এবং বৃদ্ধ বাবা-কে কুপিয়ে ধড় থেকে মাথা আলাদা করে খুন করে। স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবরের বিবরণে জানা গেছে, খুনের পর অভিযুক্ত যুবক তার স্ত্রীর কাটা মাথাটি একটি মন্দিরের ওপর বলিস্বরূপ ঝুলিয়ে দেয়।
তারপর নিজের হাতের আঙ্গুল কাটে। নিজের ভাইকেও মারার চেষ্টা করে কিন্তু সে পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পান। 
ঘটনাটি জানাজানি হতেই গোটা সোনামুখী এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্ত মঙ্গল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম মঙ্গল চৌধুরী। নিহতরা হলেন তাঁর স্ত্রী রুম্পা চৌধুরী এবং বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরী।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই দম্পতি নিয়মিত পুজো-পাঠ ও তন্ত্রসাধনা করত। অষ্টমীর রাতে আচমকাই ধারালো অস্ত্র নিয়ে এই তাণ্ডব চালায় অভিযুক্ত। স্ত্রী ও বাবাকে খুন করার পর সে উন্মত্তের মতো অস্ত্র হাতে এলাকার বাসিন্দাদেরও তাড়া করে বলে অভিযোগ। 
ঘটনার খবর পেয়ে কাঁকসা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। কী কারণে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড, এর নেপথ্য তন্ত্রসাধনার অন্ধবিশ্বাস নাকি অন্য কোনও পারিবারিক ক্ষোভ লুকিয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Comments :0

Login to leave a comment