Anil Ambani

অনীল আম্বানির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডি’র

জাতীয়

টাকা নয়-ছয়ের মামলায় শিল্পপতি অনীল আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠীর ৩,৭১৬ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি। ২০১০ সালে জয়পুর  রিজ্ঞাস জাতীয় সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের বরাত পায় অনিল আম্বানির পরিকাঠামো নির্মাণ সংস্থা। এই নির্মাণের বরাত এক ঠিকাদারকে দেয় আম্বানির  সংস্থা। ২০২১ সালে রাস্তা তৈরির পর তা কেন্দ্রের জাতীয় সড়ক সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে রিলায়েন্স সংস্থা। রাস্তা চালু হয়ে গেছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে এই সড়ক প্রকল্পের ৪০ কোটি টাকা সুরাতের শিখণ্ডী সংস্থা মাধ্যমে বেআইনি ভাবে দুবাইয়ে পাচার করেছে অনিল আম্বানি। উল্লেখ্য গত ৩ নভেম্বর আম্বানির বেআইনি মজুত অর্থ উদ্ধারে ৩ হাজার ৮৩ কোটি টাকার  ৪৩টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ইডি। এর পরেই সড়ক প্রকল্পের অর্থ পাচার নিয়ে তদন্ত শুরু করে আম্বানিকে তলব করে ইডি। এর আগেও ওই মামলায় রিলায়েন্স গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনীল আম্বানি এবং তাঁর সংস্থাগুলির প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (আরকম)’র সঙ্গে জড়িত ব্যাংক জালিয়াতি এবং অর্থ পাচার মামলা জড়িত থাকার অভিযোগে বুধবার মুম্বাইয়ের পালি হিলে অবস্থিত শিল্পপতি অনিল আম্বানির আবাসিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সম্পত্তির মোট আনুমানিক মূল্য ৩,৭১৬.৮৩ কোটি (প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার)। এর ফলে এখন পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির মোট মূল্য ১৫,৭০০ কোটি (প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। 
একই সম্পত্তির একটি অংশ, যার মূল্য ৪৭৩.১৭ কোটি (প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার) আগে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। বুধবার ইডি কর্তৃক জারি করা একটি প্রেস নোটে বলা হয়েছে যে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) কর্তৃক দায়ের করা একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের প্রাসঙ্গিক ধারার অধীনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মামলায় রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড (আরকম), অনিল আম্বানি এবং অন্যান্যদের নাম অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে যে আরকম এবং তার গ্রুপ কোম্পানিগুলি দেশী-বিদেশী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর পরিমাণে ঋণ নিয়েছিল। মোট ৪০, ১৮৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, যার মধ্যে অনেক অ্যাকাউন্টই এনপিএ হয়ে গেছে। জানা গেছে মুম্বাইয়ের পালি হিল এলাকায় অবস্থিত ৬৬ মিটার উঁচু এই বিলাসবহুল বাসভবনটি ১৭ তলা বিশিষ্ট। যে পালি হিলের সম্পত্তি অনিল আম্বানির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক ট্রাস্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার সূ্ত্রে জানা গেছে এই স্থানান্তরের উদ্দেশ্য ছিল অনিল আম্বানির এই সম্পত্তির সাথে সরাসরি কোনও সম্পর্ক ছিল না। ইডি দাবি এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল সম্পদ সংরক্ষণ করা এবং সম্পদ সংগ্রহ করে সম্পদ তৈরি করা। কেন্দ্রীয় সংস্থার মতে, এই সম্পদের প্রকৃত ব্যবহার আম্বানি পরিবারের জন্য ছিল। 

Comments :0

Login to leave a comment