গুগলের দেওয়া ২০২৪ সালের পরিবেশগত তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, এআই খুবই তৃষ্ণার্ত। আশ্চর্যজনকভাবে প্রতি বছর গুগলের বিভিন্ন ডেটা সেন্টারে ৬১০ কোটি গ্যালন মিষ্টি জল ব্যবহার করে।
তথ্য প্রযুক্তি বহুজাতিক গুগলের এই রিপোর্টে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, "২০২৩ সালে ডেটা সেন্টারগুলিতে ৬.১ বিলিয়ন গ্যালন জল ব্যবহার করা হয়েছে। আগের বছরগুলির তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি জল ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রায় একইরকম বৃদ্ধি বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে।"
ডেটা সেন্টারে তীব্র তাপ উৎপন্ন হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন এআই'র মাধ্যমে একটি কবিতা বা একটি ছবি তৈরি করা হয়, তখন হাজার হাজার প্রসেসর একই সঙ্গে কাজ করে। যা প্রচুর তাপশক্তি তৈরি করে।
এই বহু-মিলিয়ন পাউন্ড মেশিনগুলিকে গলে যাওয়া থেকে বাঁচাতে, ডেটা সেন্টারগুলি কুলিং টাওয়ার ব্যবহার করে। এই সিস্টেমগুলি বাষ্পীভবন শীতলকরণের মাধ্যমে কাজ করে। যেখানে তাপ শোষণের জন্য গরম হয়ে ওঠা প্রসেসর ঠাণ্ডা করতে জল পাম্প করা হয়। তার মধ্যে ৮০ শতাংশ জলই বাষ্প হয়ে বায়ুমণ্ডলে মিশে যায়। ফলত তা আর ব্যবহার করা যায় না।
জলবায়ু বিজ্ঞানীদের জন্য এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
মরগান স্ট্যানলির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ২০২৮ সালের মধ্যে এআই ডেটা সেন্টারগুলির জলের ব্যবহার ১১ গুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইতিমধ্যেই জলের ঘাটতির সাথে লড়াই করা অঞ্চলেও এই ধরণের ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে।
অনেক কোম্পানিই জল ভরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক সময়ই যেখান থেকে জল ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে এই প্রকল্পের কাজ করা হয় না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জনজীবনে যত বেশি সম্পৃক্ত হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপও ততই বাড়বে।
AI consume 6 billion gallons water
গুগলের ডেটা সেন্টার খরচ করে ৬০০ কোটি গ্যালন জল!
×
Comments :0