শিলিগুড়ি জুড়ে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পোস্টারকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিতর্কিত ওই পোস্টারে লেখা রয়েছে ‘পুজোয় বিরিয়ানি খান হিন্দু দোকান থেকে। হিন্দু দোকান থেকে কিনুন পুজো সামগ্রী’। আবার কোন কোন পোস্টারে এমনও লেখা রয়েছে ‘বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না। বিরিয়ানি খান কিন্তু হিন্দু দোকান থেকে।’ আবার কোনও পোস্টারে লেখা, ‘চলুন এবার পুজোয় পুজো সামগ্রী হিন্দু দোকান থেকেই কেনাকাটি করুন।’ রবিবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ি শহর জুড়ে বিভিন্ন প্রান্তে এমন বিতর্কিত পোস্টারে শহরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে পড়তেই উত্তেজনা আরও তুঙ্গে ওঠে। বংশপরম্পরায় দীর্ঘ বছর ধরে বসবাসকারী শহর বাসিন্দারাও মনে করতে পারছেন না অতীতে কখনও শহর জুড়ে এরকম পোস্টার পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শহরের নানা প্রান্তে এই বিতর্কিত পোস্টার কে ঘিরে অবাক হয়েছেন শহর বাসিন্দারা।
শহরের শতাধিক পোস্টার লাগিয়েছে এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। যদিও এক্ষেত্রে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবি, কাউকে নিজেদের মত চাপিয়ে দেওয়া নয়, মানুষ নিজেদের চিন্তায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বিষয়বস্তু ফতেয়া বা নির্দেশিকা নয়, অনুরোধ মাত্র। বিভিন্ন পোস্টারে হিন্দুদের কাছে আবেদন করা হয়েছে বিরিয়ানী খান হিন্দু দোকান থেকে। দশকর্মার সামগ্রী কেনা হোক হিন্দু দোকান থেকে। কোথাও আবার বলা হয়েছে ফেরিওয়ালা কে একটু ভাবুন। এটি একটি সামাজিক বার্তা।
কিন্তু শিলিগুড়ির মানুষজনের বক্তব্য, আমরা বিরিয়ানি খেতে যাই দোকানে গিয়ে কখনও জানতে চাই না কারিগর কোন জাত ধর্ম বা বর্ণের। একইভাবে দর্শকর্মার ক্ষেত্রেও সোলার কাজ করেন বহু কারিগর যারা মুসলিম ধর্মাবলম্বী। সে ক্ষেত্রে কখনোই প্রশ্ন তোলা হয়নি। তাই আচমকাই এই ধরনের পোস্টারে বিতর্ক বাড়ছে। আবার শহরবাসীদের একাংশের বক্তব্য, এভাবে কাউকে জোর জবরদস্তি করা উচিত নয়। শহরবাসীরা যে যেখান থেকে জিনিস কেনার ইচ্ছেমতো কিনবেন। এক্ষেত্রে কোন নিদান তারা কেন মানবেন?
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শিলিগুড়ি মহানগর সংযোজক অভিষেক দাসের বক্তব্য, মাদক থেকে অনলাইন প্রতারণা সব কিছু নিয়েই সচেতনতা বাড়াতে পোস্টার দেওয়া হয়েছে। অযথা আলাদা করে শুধুমাত্র হিন্দু দোকানির পোস্টার নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। এই পোস্টার ঘিরে স্বাভাবিকভাবে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়ে গেছে। শিলিগুড়ির প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য এই পোস্টারের প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, তীব্র নিন্দা করছি। হিন্দু জাগরণ মঞ্চ মানেই বিজেপি আরএসএস’র একটা শাখা। এদের কাজই ঘৃণা ছড়ানো। একটা ধর্মের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আরএসএসের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অঙ্গ হিসেবেই এই পোস্টার। ধর্মে ধর্মে বিভেদ তৈরি করা। জঘন্যতম রাজনীতি। কে কোথা থেকে কী কিনবেন তা কেউ বেঁধে দিতে পারেন না। শিলিগুড়িতে মারোয়ারি, নেপালিও থাকেন। কেউ যদি বলেন মারোয়ারি, নেপালির দোকান থেকে কিনবেন না। তাহলে শিলিগুড়ির ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতের কী হবে। এমনটা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। পুলিশ কিংবা যারা পোস্টার দিয়েছে অবিলম্বে তাদের এই বেআইনি ও অসংবিধানিক পোস্টরটা তুলে দেওয়া উচিত।
বিজেপি জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডল বলেন, হিন্দু সনাতনী রীতি অনুযায়ী হালাল করা খাবার খাওয়া যায় না। ধর্ম তো সংস্কৃতিও বটে। তাই না খাওয়াই উচিত। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হলে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড থাকাও তো উচিত নয়। সেই তো কোনও এক ধর্মকেই জোর দেওয়া হল।
Hindu Jagran Manch Poster
‘বিরিয়ানি খান হিন্দু দোকান থেকে‘ পোস্টার শিলিগুড়িতে, নিন্দা অশোক ভট্টাচার্য সহ নাগরিকদের
×
Comments :0