দ্বিতীয়বারের জন্য রাষ্ট্রপতি পদে বসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন প্রতিবেশী দেশ কানাডাকে তিনি আমেরিকার ৫১তম প্রদেশ হিসাবে দেখতে চান। আরও পরে ঘোষণা করেন গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্কের থেকে বিচ্ছিন্ন করে আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত করবেন। মুখে বারবার এমন হুঙ্কার উচ্চারিত হলেও কার্যক্ষেত্রে তেমন কোনও পদক্ষেপের দুঃসাহস তিনি দেখাননি। তবে মুখে তেমন কিছু না বললেও হাবভাবে কাজকর্মে বার বার তিনি পরোক্ষে বোঝাতে চাইছেন ভারতকে আমেরিকার ৫১তম রাজ্য বানাবার বাসনা না থাকলেও নিদেন পক্ষে করদ রাজ্য বানাতে তাঁর আপত্তি নেই। বস্তুত ভারতের পণ্যের উপর যথেচ্ছ হারে শুল্ক চাপানো থেকে শুরু করে ভারতের বিদেশনীতি, কূটনীতি, বাণিজ্যনীতির উপর যেভাবে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে তাতে স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসাবে স্বাধীনভাবে নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার আর ভারতের হাতে থাকছে না। ট্রাম্পের দেওয়া শর্তকে মান্যতা দিয়ে ভারতকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে হচ্ছে। ট্রাম্প বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ হতে পারেন এই আশঙ্কায় ভারত তাদের স্বাধীন বিদেশনীতির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারছে না। মার্কিন অর্থনীতি সার্বিক স্বার্থকে সামনে রেখে ট্রাম্প যেভাবে বলছেন মোদীরা সেভাবেই হাত তুলে দিচ্ছেন। ট্রাম্প বলেছেন রাশিয়া থেকে তেল কেনা যাবে না। কিনতে হবে আমেরিকা থেকে। মোদীরা মেনে নিলেন। ট্রাম্প বলেছেন অস্ত্রশস্ত্র রাশিয়া থেকে কেনা কমিয়ে আমেরিকার অস্ত্র কিনতে হবে। আমেরিকার অর্থনীতির সুবিধা হয় তাই ভারতের কৃষিপণ্য ও প্রাণীজ পণ্যের বাজার খুলে দিতে হবে। মোদীরা সেটাই করলেন। ইজরায়েল গাজায় যতখুশি গণহত্যা করুক বা ধ্বংসলীলা চালাক নীরব থাকতে হবে। নিন্দা বা প্রতিবাদ করা যাবে না। প্যালেস্তাইনের পক্ষেও সোচ্চার হওয়া যাবে না। মোদী নীরবে তা অনুসরণ করলেন। ইজরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকা ইরানে সামরিক অভিযান চালাবেন। কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো যাবে না। মোদীরা নীরব থাকলেন। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে যখন সেখানে কর্মরত এক কোটি ভারতীয়র জীবন জীবিকা অনিশ্চিত এবং ভারতের জ্বালানি সরবরাহ বিপন্ন তখন ভারতকে যুদ্ধের বিরুদ্ধে মুখর হওয়া চলবে না।
ভারতের মোট জ্বালানি আমদানি অর্ধেক আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে। সে জোগান কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কটের মুখে ভারত। ইতিমধ্যে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে। শীঘ্রই বাড়বে অন্যান্য পেট্রো পণ্যের দাম। তাতে বাড়বে অন্য সব পণ্যের দামও। বহু শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। রপ্তানি বিপর্যস্ত হবে। শেয়ার বাজারে পতন হবে। টাকা বিনিময় মূল্য আরও কমবে। সব মিলিয়ে ভারতের অর্থনীতি প্রবল ঝুঁকির মধ্যে। এর মূলে কিন্তু আমেরিকার নিজস্ব স্বার্থে যুদ্ধ। মোদীরা সেটা হাঁটু গেড়ে নতজানু হয়ে মেনে নিচ্ছেন। পরিস্থিতি যখন ভারতের অভ্যন্তরে ঘোরালো হয়ে উঠছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মোদী যখন ভীষণ বেকায়দায়। তখন ট্রাম্প দয়াদাক্ষিণ্য দেখিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের অনুমতি দিয়েছেন। বিশ্বগুরুর নেতৃত্বে ভারত কোন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কোন দেশ থেকে তেল কিনবে, কাদের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করবে সেটা ট্রাম্প ঠিক করে দিচ্ছে। অর্থাৎ ট্রাম্পের অনুমতি নিয়ে চলছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। মোদীরা ভারতকে সত্যিই আমেরিকার করদ রাজ্য বানিয়ে ফেলেছেন।
Editorial
ভারত কি আমেরিকার করদ রাজ্য
×
Comments :0