'Jail Bharo' on August 10 by Workers and Farmers

‘জেল ভরো’-তে যোগ দেওয়ার আহ্বান দেশজুড়ে, নীতি বদলাতে হবে সরকারকে, বললেন ধাওলে

জাতীয়

গত ৪ আগস্ট এভাবেই কুরুক্ষেত্রে পথে নেমেছেন হরিয়ানার মিড ডে মিল কর্মীরা।

কৃষকদের ফসলের দাম নেই। গ্রামে কাজ নেই খেতমজুরদের। শ্রমিকদের নেই কাজের সুরক্ষা, নেই শ্রম আইন। সোমবার, ১০ আগস্ট, সারা দেশে শ্রমজীবীর সব অংশই শামিল হবেন জেল ভরো এবং রাস্তা রোকো কর্মসূচিতে।
রবিবার এক বিশেষ বার্তায় এই ঘোষণা করেছেন সারা ভারত কৃষক সভার সভাপতি এবং ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠক অশোক ধাওলে।
গত ২৯ জুলাই দিল্লিতে সব কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, বিভিন্ন কৃষক এবং খেতমজুর সংগঠনের যৌথ কনভেনশনে ১০ আগস্টের কর্মসূচি ঠিক করা হয়।
রবিবার বিশেষ বার্তায় ধাওলে বলেন, এর ওপর আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ফল ভয়াবহ হতে চলেছে। কৃষক, শ্রমিক কেবল নন, ছোট বা মাঝারি শিল্পোদ্যোগীরাও পড়তে চলেছেন গভীর বিপদে। রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনও রাস্তা নেই। 
ধাওলে বলেছেন, সারা দেশে বারবার আন্দোলনে নামছেন ছাত্র এবং যুবরা। ছাত্রদের পড়াশোনার খরচ বিপুল তার ওপর পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি। আর যুবদের কাজ নেই। স্থায়ী এবং নিণম কানুন মেনে চলে এমন সংস্থায় কাজের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কারণ একটাই, হাতে গোনা কিছু কর্পোরেটের ভাণ্ডার ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলতে নেমেছে মোদী সরকার। 
শ্রমিক-কৃষক-খেতমজুররা বলছেন, ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে আনা হয়েছে শ্রম কোড। এমন কি মজুরির মতো আন্দোলনকেও অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার ব্যবস্থা হয়েছে। কাজের সময়, কাজের সুরক্ষা, ন্যূনতম মজুরি পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কেড়ে নেওয়া হয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার। 
ধাওলে বলেছেন, কৃষকদের অবস্থা দেখুন। বীজ বিল বা বিদ্যুৎ বেসরকারিকরণের বিল তো আসলে কৃষকের সর্বনাশ। একচেটিয়া মুনাফা শুধু পুঁজিপতিদের। আরেকদিকে ফসলের ন্যূনতম দামের আইন কিছুতেই চালু করছে না মোদী সরকার। ন্যূনতম দাম ঠিক করার হিসেবেও কারচুপি চলছে। স্বামীনাথ কমিশন চাষের প্রকৃত খরচের সঙ্গে ৫০ শতাংশ যোগ করতে বলেছিল। অথচ পখরচ কমিয়ে ধরা হচ্ছে সরকারি খাতায়। 
ধাওলে বলেছেন, খেতমজুররা বিপন্ন। কারণ। গ্রামে একশো দিনের আইনকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। চাষও ধুঁকছে। তাঁরা কাজ পাচ্ছেন না, মজুরি নেই।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে জেল ভরো আন্দোলনে শামিল হয়েছে বস্তি উন্নয়ন সমিতিও। রাজ্যে সদস্য আসীন বিজেপি সরকার শহরাঞ্চলে জমির ঊর্ধ্বসীমা আইন তুলে দেওয়ার লক্ষ্য জানিয়েছে সরাসরি। সবচেয়ে আগে বিপদে পড়বেন বস্তিবাসী মানুষ। যাঁরা আদতে গ্রাম থেকে শহরে কাজের খোঁজে আসা শ্রমজীবী। 
রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলেছে ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির প্রচার।   
ধাওলে আহ্বানে বলেছেন, ১০ আগস্ট ঘরে থাকার দিন নয়। জেল ভরো বা রাস্তা রোকোতে শামিল হওয়ার দিন। কেন্দ্রের সরকারকে নীতি বদলাতে হবে। না’হলে সরকার বদলে দেবেন শ্রমজীবীরা।

Comments :0

Login to leave a comment