SKM Rally at Kolkata

হামলা কৃষকদের ওপর, আন্দোলনের জোরে অন্যায়ের ডবল ইঞ্জিনকে থামানোর আহ্বান কৃষক সমাবেশে

রাজ্য কলকাতা

ধর্মতলায় কৃষক সমাবেশে সংযুক্ত কিসান মোর্চার যুগ্ম আহ্বায়ক অমল হালদার।

চরম দুর্দশায় কৃষকরা। সরকার ফিরে তাকায় না। গ্রাম বাংলার ভয়াবহ অবস্থা। এই অন্যায়কে রুখতে হবে। আন্দোলনই পারে এই অন্যায়কে রুখতে। আন্দোলনই পারে ডবল ইঞ্জিনকে থামাতে। 
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ধর্মতলায় সংযুক্ত কিসান মোর্চার সমাবেশে একথা বলেছেন এই মঞ্চের রাজ্য যুগ্ম আহ্বায়ক অমল হালদার। সারা ভারত কৃষক সভা সহ বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অংশ নিচ্ছেন সমাবেশে। অমল হালদার বলেন, সমাবেশের পথে যাঁরা আক্রান্ত হলেন তাঁরাও সমাবেশে যোগদান করেছেন। আমরা হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।  (কৃষকসভার বিশাল সমাবেশ ধর্মতলায়, রাস্তায় আলু বেচছেন প্রতিবাদী কৃষকরা) 
সারা ভারত কৃষক সভার প্রবীণ নেতা অমল হালদার বলেছেন, এসআিআর’র নামে মানুষের নাম কেটে দেওয়া যায় না। জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করতে হবে। ২০২৩ সালে একটা আইন করে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ পদ্ধতি বদল করা হয়েছে। বিজেপি প্রতিদিন গণতন্ত্রকে হত্যা করছে। আজ রাজ্যের মেধার চাষ বন্ধ করে দিয়েছে। 
তিনি বলেন, আলুর ফলন কম হলে চাষী মারা যাবে। চাষিদের সমস্যা বাড়ছে প্রতিদিন। বিদেশ থেকে শার আমদানি করতে হচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা না করে। ট্রাম্প যা বলে মোদী তাই শোনে।
রাজ্যের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন এই কৃষক নেতা। তিনি বলেন, আপনারা যাদবপুর আক্রমণ করছেন, সত্যজিৎ রায় নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে। আরেকদিকে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করছেন। কী চান আপনারা? আপনারা নেতাজী সুভাষচন্দ্রকে ‘গুন্ডা’ বলছেন। স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কে লেনিন কী বলেছেন জানার চেষ্টা করুন। লেনিন সরণির নাম বদলানোর চেষ্টা করছেন, লেনিন সম্পর্কে জানুন আগে। আপনারা রামমোহন, বিদ্যাসাগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন। 


তিনি বলেন, আপনারা স্কুল বন্ধ কছেন। গ্রামবাংলা লটারি আর মাদকাসক্তিতে আচ্ছন্ন। পড়াশোনা, চাকরি নিয়ে ভাবেন না। জিনিসের দাম নিয়ে ভাবেন না। দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলের প্রধানরা টাকা দিয়ে ছাড় পাচ্ছে। এখন তৃণমূল বিজেপি একসঙ্গে পঞ্চায়েত চালাচ্ছে। আর গরিব মানুষের কাজের অধিকার নেই। গ্রামে কাজ নেই। পঞ্চায়েতের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে আধিকারিকদের হাতে। সমবায় ব্যবস্থা উঠে গিয়েছে। ‘সমবায়ের মধ্যে সমবায়’ ছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠী। তাকে তুলে দিয়ে গ্রাম বাংলায় ছেয়ে গিয়েছে মাইক্রো ফিনান্সে। চড়া সুদে টাকা না মেটাতে পেরে রাতের অন্ধকারে গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে বহু পরিবার। আপনারা ভোটের আগে ঘোষণা করলেন লক্ষ্মী ভাণ্ডার যারা পেয়েছেন তাঁরা সবাই পাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। দিচ্ছেন না। তাই মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। আপনারা বলছেন উস্কে দিচ্ছে। কেউ উস্কে দিচ্ছে না জীবনের যন্ত্রণায় মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।


অমল হালদার বলেন, আজ লড়াই ছাড়া পথ নেই। যারা বাড়িতে বসে ভাবছেন সব এমনি এমনি হবে, আমরা বলছি হবে না। আলুচাষীর টাকা নেই। ফসলের দাম নেই। আমরা বহু জায়গায় আন্দোলন করলাম। আরও বড় আন্দোলন করতে হবে। সেই আন্দোলন করতে পারে কৃষক সভা। আন্দোলন সব অন্যায়কে থামাতে পারে। ডবল ইঞ্জিনও থেমে যাবে। 
রাজ্যে সংযুক্ত কিসান মোর্চার অপর যুগ্ম আহ্বায়ক কার্তিক পাল বলেছেন, মিছিলে আজ কৃষকরা আক্রান্ত হয়েছে। বিজেপি-কে বলতে চাইবো কৃষকের গায়ে হাত দেবেন না। এই দেশ কৃষি নির্ভর দেশ। কিন্তু কৃষকরা সম্মান পায় না। দেশের কৃষকরা এই মোদী সরকারকে বাধ্য করেছিল মাথা নত করতে। প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে নবান্ন হোক বা মহাকরণ ঘেরাও করা হবে। আলু চাষি দাম না পেলে রাজ্য জুড়ে হবে পথ অবরোধ। ফসল নিয়ে হবে অবরোধ।

Comments :0

Login to leave a comment