chengail pujali ferry service

উদ্বোধনের আড়াই বছর পরও জেটি থেকে চলছে না লঞ্চ, হুগলি নদীর দুই পারে ক্ষোভ যাত্রীদের

জেলা

আগাছা ও লতাপাতায় ডেকেছে নেপালি ঘাটের নতুন জেটি ঘাটের প্রবেশ পথ। ছবি: মনিরুল হক।

হুগলি নদীর দুই পারে হাওড়ার চেঙ্গাইল ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুজালির মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেরি পরিষেবা।শিল্পাঞ্চল ঘেরা চেঙ্গাইল-বাউড়িয়া এলাকার জুটমিল শ্রমিক থেকে শুরু করে দুই জেলার সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই জলপথ ব্যবহার করেন। চেঙ্গাইলের নেপালি ফেরিঘাট থেকে পুজালি ফেরিঘাট গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীঘাট। সেখানে প্রতিদিন আনুমানিক ১,২০০ জন যাত্রী প্রায় মোট ৩২ বার নদী পারাপার করে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই জলপথের ব্যবহার বহু পুরনো এবং ব্রিটিশ আমল থেকেই দুই পাড়ের মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে চেঙ্গাইল ও বাউড়িয়া শিল্পাঞ্চলের জুটমিলগুলিতে কর্মরত শ্রমিকদের কাছে এই রুটটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিনের এই যাতায়াত ব্যবস্থায় ছিল বড় সমস্যা। ভাঁটার সময় নদীর জল নেমে গেলে যাত্রীদের অনেক সময় কাদা ও হাঁটু-সমান বা তারও বেশি জলের মধ্য দিয়ে হেঁটে নৌকায় উঠতে হতো। নির্দিষ্ট জেটি না থাকায় বর্ষা বা ভাটার সময় দুর্ভোগ আরও বাড়ত। 
এই দুর্ভোগের পাশাপাশি ১৮ মার্চ ২০১৩ নেপালি ঘাটের কাছে প্রায় ৩৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা হুগলি নদীতে উলটে যায়। নৌকাটি মাঝনদীতে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর প্রবল জোয়ারের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উলটে যায়। ৩২ জনকে উদ্ধার করা হলেও তিনজন নিখোঁজ ছিলেন। এই ঘটনার পর এই রুটে নিরাপত্তা ও যাত্রী পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। অবশেষে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে চেঙ্গাইলের নেপালি ঘাটে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৩ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নতুন জেটি নির্মাণ করে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর। পরবর্তী পর্যায়ে দুই পাড়ে জেটি তৈরি হলে ভেসেল বা লঞ্চ চালানোর পরিকল্পনা ছিল। পরে পুজালি ঘাটেও জেটি নির্মাণ হয়। কিন্তু নেপালী ঘাটে নতুন জেটি নির্মাণের আড়াই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লঞ্চ পরিষেবা এখনও চালু হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেটিতে যাওয়ার প্রবেশ পথের সমস্যাও মেটেনি। জেটিতে ঢোকার মূল পথের একটি অংশ ল্যাডলো জুটমিলের জমির উপর দিয়ে হওয়ায় তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। অন্যদিকে বিকল্প রাস্তার কাজ শুরু হলেও সেটিও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এর ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি জেটির ব্যবহার থেকে সাধারণ মানুষ এখনও পুরোপুরি বঞ্চিত। স্থানীয়দের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় জেটির প্রবেশপথ আগাছা ও লতাপাতায় ঢেকে যাচ্ছে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবও চোখে পড়ছে।

চেঙ্গাইলের বাসিন্দা নীলাদ্রি মুন্সী বলেন, "জেটি চালু হয়নি, কারণ রাস্তা নেই। যে জেটিতে মানুষ নামবে, নেমে তো তার বেরোনোর রাস্তা দিতে হবে। বেরোনোর রাস্তাটা মিলের জায়গার ওপর দিয়ে। মিল জায়গা দিচ্ছে না, সেই কারণে রাস্তা হয়নি। উদ্বোধন হয়ে যাওয়ার পরেও জেটিটা পড়ে আছে। প্রায় আড়াই বছরের বেশি হয়ে গেল। নৌকা চলছিল যখন, তখন আর জেটি বানানোর দরকারই ছিল না। আর যখন বানানো হয়েছে, তাহলে সেটা শুরু করা হচ্ছে না কেন? সরকার আগে কথাবার্তা বলে, রাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তারপর জেটি তৈরি করলে ভালো হত। সরকারের টাকা মানে আমাদের ট্যাক্সের টাকা। তাই জেটি পড়ে পড়ে নষ্ট না হয়ে দ্রুত পরিষেবা শুরু হওয়া উচিত।"
যদিও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ সারফেস ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন চেঙ্গাইল ও পুজালী দুই ফেরিঘাটের জেটির অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অপারেটর নির্বাচনে টেন্ডার প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত মিটিয়ে জেটিতে যাওয়ার স্থায়ী রাস্তা তৈরি করতে হবে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পরিকল্পিত লঞ্চ পরিষেবা বাস্তবে চালু করতে হবে। 
এখন তাই দুই জেলার মানুষের অপেক্ষা, জেটি তৈরি হয়েছে, এবার কবে সত্যিই জেটি থেকে নিরাপদ ও নিয়মিত লঞ্চ পরিষেবা শুরু হবে?

Comments :0

Login to leave a comment