Women's Day

সমানাধিকার ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই জোরদার করতে হবে, নারী দিবসে নেতৃবৃন্দ

রাজ্য কলকাতা

নারীর সমানাধিকারের পাশাপাশি ভোটাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবি নিয়ে রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শিয়ালদহ থেকে ওয়েলিংটন পর্যন্ত মিছিল করে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সহ তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী একাধিক মহিলা সংগঠন। কলকাতা কর্পোরেশন পর্যন্ত মিছিল করে যাওয়ার কথা থাকলেও, শান্তিপূর্ণ মিছিলকে ওয়েলিংটনের সামনেওই বিশাল ব্যারিকেড করে আটকায় পুলিশ। মিছিলকে এগিয়ে জন্য দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে মহিলা নেতৃত্বের তরফে কথা বলা হয়। তবে পুলিশের তরফে এই বিষয়ে কোনও সহযোগিতা না করা হলে রাস্তায় বসেই বিক্ষোভ শুরু করেন মহিলারা।

এদিন সাধারণতন্ত্র রক্ষা, জীবন-জীবিকার প্রতি আক্রমণ প্রতিহত করা, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা, তামান্না-তিলোত্তমার ঘটনার সুবিচার সহ একাধিক দাবি জানানোর পাশাপাশি নারীদের গণতন্ত্র রক্ষা ও ভোটাধিকার রক্ষাই এদিনের মিছিলের মুখ্য বিষয় হয়ে ওঠে। সেইসঙ্গে, রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়েও এদিনের মিছিল থেকে সরব প্রতিবাদ জানান তাঁরা। সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সহ তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী একাধিক মহিলা সংগঠন এদিনের মিছিলে অংশগ্রহণ করে। সেইসঙ্গে, সিআইটিইউ সহ বামপন্থী বিভিন্ন মহিলা সংগঠন বিশাল জমায়েত করে এদিনের মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। এদিনের মিছিলের উদ্বোধন করেন প্রবীণ মহিলা নেত্রী মালিনী ভট্টাচার্য। 
এদিনের মিছিল থেকে মোনালিসা সিন্হা বলেন, "যেভাবে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির নাম করে মহিলা সহ ভোটারদের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমরা বলছি প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে কোনও ভাবেই নির্বাচন করা যাবে না। সেইসঙ্গে সমানাধিকার এবং নারীর নিরাপত্তার দাবিও আমরা জানাচ্ছি। একসময় ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছিল মহিলাদের, এখন তাদের অর্জিত সেই অধিকারকে কেড়ে নয়া হচ্ছে। মহিলাদের ভোটাধিকার থাকছে না, মোস্তারী বানুদের আন্দোলন, লড়াই করতে হচ্ছে। আমরা তাদের সেই আন্দোলনের পাশে আছি।" 
মিছিল থেকে জাহানারা খান বলেন, "নারীমুক্তি, সমানাধিকারের লড়াই আমরা শুরু থেকেই করে আসছি। আজকের নারী দিবসের দিনে আরও জোরাল হয়ে গেলো কারণ যে মহিলারা লড়াই করে যে ভোটাধিকার পেয়েছিলেন আজকে মহিলারাই সেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন দিয়ে নারীমুক্তির কথা বললে হবে না, আজকের দিনে  কোথাও নারীদের নিরাপত্তা নেই। এর বিরুদ্ধে আমরা যেমন লড়াই চালিয়েছি তেমনি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিরুদ্ধেও আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো।

ওয়েলিংটনের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড করে মিছিল আটক করলে, পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়। পরে রাস্তায় বসে পরে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। বিক্ষোভরত অবস্থায় মোনালিসা সিন্হা বলেন, "আন্তর্জাতিক নারী দিবসের জন্য আমরা মিছিল করেছিলাম মমতা ব্যানার্জী ধর্মতলায় বসে আছেন বলে আমাদের আটকে দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যে এটা কী ব্যবস্থা চলছে? আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করে যাচ্ছিলাম কোনও অশান্তির উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না, তার পরেও পুলিশ আটকালো। রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী আর প্রশাসন মহিলাদের অধিকারের মিছিলকেই আটকাচ্ছে।"

Comments :0

Login to leave a comment