নরেন্দ্র মোদীর দল ও সরকার দেশে যতই মুসলিম বিদ্বেষী হোক না কেন দেশের বাইরে ঠিক বিপরীত ভাবতমূর্তি গড়ে তোলার জন্য দ্বিচারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ২১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের ভেতরে গোরক্ষা, লাভ জিহাদ ইত্যাদি হাজারো বাহানায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিংসা, হামলা, বর্বরতা বাড়লেও বিস্ময়করভাবে মুসলিম প্রধান দেশগুলি বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় মুসলিম দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ করতে অতি তৎপর হয়ে পড়ে। মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে যতবার সংযুক্ত আরব আমীর শাহী, সৌদি আরব সহ পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম দেশগুলিতে সফর করেছেন আগের প্রধানমন্ত্রীরা তার ধারে কাছেও যায়নি। বোঝাই যাচ্ছিল এটা একটা রাজনৈতিক কৌশল। হিন্দুত্ববাদের তাড়নায় দেশে তীব্র ও ঘৃণ্য মুসলিম বিদ্বেষের কুৎসিত ঘটনাগুলি যাতে বিদেশে বিশেষ করে মুসলিম দুনিয়ায় সমালোচনার কারণ না হয়। দেশের মধ্যে শাসক বিজেপি’র ধর্মীয় ঘৃণা ও বিদ্বেষকে বিদেশে আড়াল করে নিজের ভাবমূর্তি বাঁচিয়ে রাখার জন্য এমন দ্বিচারিতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া সরকার চালানো এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার রসদ জোগানোর জন্যও পশ্চিম এশিয়ায় মিত্র বাড়ানো জরুরি ছিল। দেশে বিভাজনের রাজনীতিকে তীব্র করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে মুসলিম বিদ্বেষ যেমন তাদের জরুরি তেমনি জ্বালানির জন্য পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরতাও অপরিহার্য। আবার এই অঞ্চলের দেশগুলিতে কর্মরত প্রায় এক কোটি ভারতীয়র আয় না হলে ভারতের বিদেশী মুদ্রায় তহবিল সঙ্কটে পড়তে পারে। তাই দুই নৌকায় পা দিয়ে দিব্যি চালাচ্ছিল নরেন্দ্র মোদী।
অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে আদর্শগত মিল থাকায় ইহুদিবাদী ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা গড়তে ব্যাকুল হয়ে পড়েন। বস্তুত মোদী জমানায় ভারতের প্যালেস্তাইন নীতি ও পশ্চিম এশিয়া নীতি বদলে ভারতকে ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই স্বাধীন প্যালেস্তাইনের দাবি থেকে দূরে সরে যায় ভারত। অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক দাবার বোর্ডে ভারত তার অবস্থান বদল করে দ্রুত আমেরিকা-ইজরায়েলের অক্ষের সঙ্গে নিজে যুক্ত করতে থাকে। ফলে আমেরিকা-ইজরায়েলের স্বার্থের কথা ভেবে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্কের কাটাছেঁড়া চলতে থাকে। বৈশ্বিক মঞ্চে মার্কিন বদান্যতায় নিজেকে বিশ্বগুরু জাহির করার মোহে ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়। মার্কিন হুকুম তামিল করে ইরানের সম্পর্ক শিথিল করে। দু’বছর ধরে মার্কিন মদতে ইজরায়েলের বর্বরতা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলেনি। সাম্প্রতিক ইরান আগ্রাসনের আগের দিনও ইজরায়েল সফরে মোদী ইজরায়েলকে সার্বিক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন। এই অবস্থান বদল ভারতের দৃঢ়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতায় চিড় ধরে। আজ যুদ্ধের আবহে যে জ্বালানি সঙ্কট ভারতের উপর সবচেয়ে বেশি আঘাত হানছে তার পেছনে আছে ভারতের বিদেশ নীতিতে বদল এবং চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা। হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য বন্ধ হয়েছে মোদী সরকারের নীতির কারণে। ইরানে আগ্রাসন মোদী সরকার নিন্দা তো করেইনি উলটে নীরবে সমর্থন করেছে। বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার নিন্দা করলেও ইরানে মার্কিন-ইজরায়েল হামলার নিন্দা করেনি। তারজন্য ভারতবাসীর জীবনে ভয়াবহ সঙ্কট নেমে এসেছে।
Modi
দায় মোদী সরকারের
×
Comments :0