Cooch Behar Firearm Recovery

দিনহাটায় আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার এক

জেলা

এক রাউন্ড গুলি এবং পিস্তল সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করলো সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে দিনহাটা দুই নম্বর ব্লকের খোঁচাবাড়ি বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত ওই যুবকের নাম সঞ্জয় বর্মন। ভোটের দিন ঘোষণার পরেই আসাম- বাংলা সীমান্তের বক্সীরহাট থানার পুলিশ নাকা চেকিং চালিয়ে ভিন রাজ্যের ৩ জনকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড গুলি সহ গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার আগের দিন তুফানগঞ্জের সাহেববাড়ি ঘাট এলাকা থেকে ঝুমন আলী নামে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র সহ। সম্প্রতি দিনহাটার জামবাড়ি এলাকা থেকে তপন রায় নামে এক ব্যক্তি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হয়েছে। সিতাইয়ের চামটা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে করুণা বর্মন নামে এক ব্যক্তি। দুজনের থেকেই পুলিশ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে। একই ভাবে দিনহাটার মাশানপাট এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হয়েছে তুলসী বর্মন নামে এক ব্যক্তি। এই ঘটনার পর রবিবার গভীর রাতে এক রাউন্ড গুলি এবং পিস্তল সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। দিনহাটা দুই নম্বর ব্লকের খোঁচাবাড়ি বাজার এলাকা থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত ওই যুবকের নাম সঞ্জয় বর্মন(৪০)।  ২ নম্বর লাঙ্গুলিয়া এলাকার বাসিন্দা। ওই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রটি ওই যুবকের কাছে কিভাবে এলো, কোন উদ্দেশ্যে সে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল সামগ্রিক বিষয় নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। সোমবার তাকে দিনহাটা আদালতে তোলা হয়।
জানা গেছে, রাতে দুই নম্বর লাঙ্গুলিয়া এলাকার সঞ্জয় বর্মন নামে ওই যুবক খোঁচা বাড়ি বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। পুলিশ গোপন সূত্রে এ খবর জানতে পারে। সেই সময় এক দল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং ওই যুবককে পাকড়াও করে। তাকে তল্লাশি করে এক রাউন্ড গুলি ও একটি পিস্তল উদ্ধার উদ্ধার হয়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি পুলিশের তরফ থেকে এদিন তাকে দিনহাটা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিধানসভার ভোট যতই এগিয়ে আসছে দিনহাটার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের আমদানি ততই বেড়ে চলেছে। ইতিমধ্যেই দিনহাটার সিতাই, ভেটাগুড়ি, গোসানিমারি সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। অথচ এই অবৈধ অস্ত্রের আমদানি বন্ধ হচ্ছে না এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। এদিন আগ্নেয়াস্ত্র সহ যে যুবককে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি ওই যুবক কি উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছিল এর পেছনে কি কোন রাজনীতি রয়েছে কিংবা অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে তদন্ত নেমেছে পুলিশ।
নির্বাচনের মুখে বারবার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভোট এলেই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট বাড়ে কোচবিহার জেলায় এমন অভিযোগও উঠছে। ‘‘ভোট এলেই কোচবিহারে এলাকা দখলের রাখার জন্য বাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি।অস্ত্র মানে আগ্নেয়াস্ত্র। আর এই আগ্নেয়াস্ত্র যারা ব্যবহার করে ভোটের আগে তাদেরকেই বিজেপি আর তৃণমূল দুই দল ব্যবহার করে। ওরাই হয়ে ওঠে দুই দলের সম্পদ।’’ সম্প্রতি এমন অভিযোগ করেন দিনহাটার সিপিআই(এম) নেতা শুভ্রালোক দাস।
অভিযোগটা যে উড়িয়ে দেওয়ার নয় সেটাও স্পষ্ট গত এক মাসে কোচবিহারের পুলিশের উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র আর কার্তুজের সংখ্যায়। সিপিআই(এম) নেতার অভিযোগকে সমর্থন করছেন, সিতাই, দিনহাটা, শিতলখুচি, তুফানগঞ্জের সাধারণ মানুষেরাও।
দিনহাটার এক্রামুল হক পেশায় ব্যবসায়ীর বক্তব্য,‘‘পুলিশ যতটুকু আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করছে সেটা তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। ভোট নির্বিঘ্নে রক্তপাতহীন করতে হলে পুলিশকে আরো সক্রিয় হতে হবে। জেলা পুলিশর দাবি,  আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে কোন খামতি রাখা হচ্ছে না। নিয়মিত তল্লাসী চলছে। পুলিশের একাংশের বক্তব্য, ডুয়ার্স ও কোচবিহারকে কেন্দ্র করে অস্ত্র ব্যবসায়ীদের একটা চক্র কাজ করছে। ভোট এগিয়ে এলে ওদের ব্যবসা তেজী হয়। সেটা বুঝতে অসুবিধে হয় না। পুলিশ যেসব অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেগুলির মধ্যে পাইপগান, সেভেন এমএম পিস্তল,কার্তুজ রয়েছে। পুন্ডিবাড়ি, সিতাই, দিনহাটা, শিতলখুচি, সাহেবগঞ্জ এবং তুফানগঞ্জের বক্সীরহাটে পুলিশ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে সফলতা পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। 
সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা সত্যেন দাসের কথায়, গত পঞ্চায়েত ও বিধানসভা ভোটে দিনহাটা ও শিতলখুচি বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। গত বিধানসভা ভোটে শিতলখুচির পাঠানটুলি গ্রামের যুবক আনন্দ বর্মন ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। সিবিআই তদন্ত ভার নিলেও মূল অভিযুক্ত আজও অধরা। দিনহাটাতেও একাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনাই রাজনীতির সাথে জড়িত। নাম জড়িয়েছে বিজেপি আর তৃণমূলের দিকে। কিন্তু কোন ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হয় নি। কোন ক্ষেত্রেই পুলিশ কোথা থেকে অস্ত্র আসছে কিংবা কাদের জন্য অস্ত্র আসছে সেটা ধৃতদের থেকে জানতে পারছে না। আশঙ্কা পুলিশ আরও তৎপর না হলে আর এরকম চলতে থাকলে এবারের বিধানসভা ভোটও রক্তক্ষয়ী হবে।

Comments :0

Login to leave a comment