প্রবন্ধ | মুক্তধারা
গ্যালিলিও গ্যালিলির মহাপ্রয়াণ
তপন কুমার বৈরাগ্য
সত্যের সন্ধানী ছিলেন গ্যালিলিও।১৫৯২খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৬১০ পর্যন্ত তিনি পৃথিবীতে একের পর এক আশ্চর্য সব জিনিস
আবিষ্কার করে চললেন।তাদের মধ্যে প্রথমেই বলতে হয়
দূরবীণের কথা।১৬০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি আবিষ্কার করলেন
দূরবীন।এছাড়া আবিষ্কার করলেন শনি গ্রহের বলয়,চাঁদের
ভূমি অসমতল হওয়ার কারণ,বৃহস্পতির তিনটি উপগ্রহ,
একাধিক নক্ষত্রের সঠিক অবস্থান,নিক্তি ইত্যাদি।
তিনি অন্যায়কে কোনোদিন মেনে নেননি।তিনি সত্য থেকে
কখনো সরে আসেন নি।যাযকসম্প্রদায় বারবার তাঁকে তাঁর পথ
থেকে সরে আসতে বলেছিলেন কিন্তু তাঁকে একচুলও তাঁরা বিচলিত করতে পারেননি।রক্ষণশীল যাযকসম্প্রদায় তাঁর উপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন।তবুও তিনি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
জেসুইটরা তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখলেন। সালটা ১৬৩৭,
তখন তাঁর বয়েস সত্তর বছর।তাঁর কোথাও যাবার অনুমতি
ছিল না।এ যেন তাঁর জেলখানায় বন্দী অবস্থা।একপ্রকার
অন্ধকার ঘরেই একাকী থাকা।এইভাবে দারুণ মনের বেদনা
নিয়ে থাকার জন্য এবং চোখদুটো সর্বদা অশ্রুতে ভিজে থাকার
কারণে ১৫৩৮খ্রিস্টাব্দে তিনি চিরদিনের মতন অন্ধ হয়ে যান।
এর চার বছর পর ১৬৪২খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারির প্রথমদিকে
অজানা জ্বরে আক্রান্ত হলেন। কিছুতেই তিনি ভালো হয়ে
উঠলেন না।৮ই জানুয়ারি ইতালির আরসেত্রিতে ৭৭বছর বয়েসে চিরনিদ্রার কোলে ঢলে পড়লেন। আমরা হারালাম এক মহান বিজ্ঞানীকে। যিনি ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী,গণিতজ্ঞ,
দার্শনিক। যিনি ছিলেন আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক।
গ্যালিলিও জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৫৬৪খ্রিস্টাব্দের ১৫ই ফেব্রুয়ারি।তাঁর জন্মস্থান ইতালির পিসা শহরে। একজন
মহান বিজ্ঞানীর এমন মৃত্যু আমাদের সকলের চোখে জল
এনে দেয়।
Comments :0