ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে টানা চার-পাঁচ দিন কখনও ঝিরঝিরে, কখনও দু-এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে ভিজেছে জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। টিনের চালের উপর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দের সঙ্গে আবহাওয়ায় এসেছিল হালকা শীতের আমেজ। কয়েক দিনের মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার পর অবশেষে ফিরেছে রোদ।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে শীতকালীন সবজি চাষে এখনই বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন না কৃষকেরা। বরং জমিতে আর্দ্রতা বাড়ায় কিছুটা আশাবাদী তাঁরা। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ ধানচাষিদের।
জলপাইগুড়ি সদর, রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি ও ধূপগুড়ি ব্লকের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে শীতকালীন সবজি চাষ। ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, পালং শাক-সহ বিভিন্ন সবজির চারা এখন মাঠে বেড়ে উঠছে। অন্যদিকে তিস্তা নদীর অববাহিকা ও সংলগ্ন নিচু জমিতে ধান এবং মরশুমি শাকসবজি চাষ করেন বহু কৃষক। তাঁদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক হালকা বৃষ্টিতে মাটির আর্দ্রতা বেড়েছে। ফলে সবজি চাষে আপাতত ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে টানা ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
সদর ব্লকের কোনপাকরি এলাকার কৃষক রজিমুল হক জানান, এখনকার বৃষ্টিতে ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হলে জমিতে জল দাঁড়িয়ে ধান ও সবজি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত কয়েক বছরে এমন বৃষ্টিতে ধানগাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছিল। কাদায় ধান পড়ে থাকায় সময়মতো কাটা সম্ভব হয়নি। পরে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটলেও গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ধানগাছ মাঠেই পচে নষ্ট হয়েছে।
আরেক কৃষক সনাতন রায়ের কথায়, এই বৃষ্টি চা বাগানের উৎপাদনের পক্ষে সহায়ক। কিন্তু নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে ধান ও শীতকালীন সবজি চাষে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, জলপাইগুড়ি জেলায় নিট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ২৫৬ হেক্টর। জেলার বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত প্রায় ২,৫৪৮.৮ মিলিমিটার। চাষযোগ্য জমির প্রায় ৪০ শতাংশ সেচের আওতায় রয়েছে এবং ফসলের নিবিড়তার হার ১৮৬ শতাংশ। ধান, পাট, আলু ও বিভিন্ন মরশুমি সবজি জেলার অন্যতম প্রধান কৃষিজ ফসল।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত বৃষ্টি জমির আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করলেও অতিবৃষ্টিতে জল জমে গেলে সবজির শিকড় পচা, গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং ছত্রাকজনিত রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে ধান পাকার সময় প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ মাটিতে শুয়ে পড়া, শিস থেকে ধান ঝরে যাওয়া এবং জমিতে জল জমে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জমি থেকে অতিরিক্ত জল বের করার ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান হলো, ২০২৬ সালের বর্ষাকালে উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। উত্তরবঙ্গে বর্ষাকালের স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ১,৮৮২.৮ মিলিমিটার হলেও এ বছর হয়েছে ১,৬৪৭.১ মিলিমিটার। জলপাইগুড়ি জেলায় বর্ষাকালে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল প্রায় ২৬ শতাংশ। তবে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে নতুন করে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে।
Jalpaiguri Paddy Farmers
মাঠে পচতে পারে ফসল, ফের নিম্নচাপে শঙ্কায় জলপাইগুড়ির ধানচাষিরা
×
Comments :0