আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লিফটে আটকে মৃত্যুর ঘটনার পুলিশ শনিবার পাঁচজনকে আটক করেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মৃত অরূপ ব্যানার্জির বাবা অমল ব্যানার্জি, ঘটনার দিন, ২০ মার্চ, পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার এই হাসপাতালে মর্মান্তিক ঘটনায় লিফটের ভেতরে আটকে পড়ে মৃত্যু হয় চল্লিশ বছরের অরূপ ব্যানার্জি। সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন তিনি।
শনিবার পুলিশ জানিয়েছে যে অনিচ্ছাকৃত হত্যার ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত ওই পাঁচজনের পরিচয় জানা যায়নি। তবে পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যেখানে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে অর্থাৎ ট্রমা কেয়ার বিল্ডিং-এর ওই লিফটটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন ধৃতেরা।
নিহতের পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত অরূপ ব্যানার্জি লিফটটিতে ওঠার পর হঠাৎই সেটি বিকল হয়ে গেলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। পরিবারটি আরও অভিযোগ জানিয়েছে যে লিফটটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল এবং সেটিকে অপারেট করার জন্য কোনও লিফটম্যান ও ছিলেন না। ফলত লিফটি যথাযথ সুরক্ষিত ছিল না।
হাসপাতলের এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানান, আহত অবস্থাতেই ওই মৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয় এবং তখন তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। ওই অবস্থায় তাকে হাসপাতলের আপৎকালীন বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় পরে সেখানেই তিনি মারা যান।
শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতা পুলিশের দেওয়া ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে ‘পলিট্রমা‘-র কারণেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুকের পাঁজরে চাপ, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও যকৃত ফেটে যাওয়া এবং পা, হাত ও পাঁজরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল দেহে।
পুলিশ জানিয়েছে, আঘাতের চিহ্নগুলি মৃত্যুর আগের, যা থেকে বোঝা যাই এই আঘাতের কারণেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের ওই আদিকারিক জানিয়েছেন বাকি তদন্তের জন্য কেসটিকে গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতালের রোগী কল্যাণ কমিটির চেয়ারম্যান ও কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ স্বীকার করেছেন যে এই ঘটনার পিছনে রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটি থাকতে পারে। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন যে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাশাপাশি গোটা ঘটনায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, আর জি করেই চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। তারপর হয় বিপুল আন্দোলন কিন্তু রাজ্য সরকার বা স্বাস্থ্য দপ্তর কেউই শিক্ষা নেয়নি। রক্ষণাবেক্ষণের গুরুতর অভাব দেখা যাচ্ছে, আসলে মেডিক্যাল মাফিয়ারাই নিয়ন্ত্রণ করছে বিভিন্ন হাসপাতাল।
রাজ্যের একটি ফরেনসিক দল ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংটি পরিদর্শন করে লিফট এবং তার কোলাপ্সবেল গেট, নিচতলা এবং লিফট শ্যাফটের দেয়াল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।
কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনার সময় কারা ডিউটিতে ছিলেন তা জানতে ওই বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মী ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ডিউটি রোস্টারও খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি তদন্তের জন্য হাসপাতালের কর্মী এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা।
ওই মৃত ব্যক্তি তাঁর চার বছরের ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে এলে এই ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, সে সময় তাঁর স্ত্রী ট্রমা কেয়ার বিভাগে উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট সপ্তর্ষি চ্যাটার্জি সাংবাদিকদের জানান, নিহতের বাবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেটি টালা থানায় পাঠানো হয়।
হাসপাতালে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে মৃতের পরিবার। সরকারি এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন বহু রোগীর চিকিৎসা হয়। রোগীর পরিবার পরিজনরা থাকেন। লিফটে আটকে মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে সংশ্লিষ্ট সব অংশেরই। প্রশ্ন উঠেছে কেবল পাঁচ কর্মীকে দায়ী করে দায় ঝেড়ে ফেলা হচ্ছে কেন?
Police arrested five people at R. G. Kar
আর জি করে লিফটে আটকে মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত ৫, অবহেলার দায় কার, উঠছে প্রশ্ন
×
Comments :0