আলুর দাম আরেও কমলো। ফড়েদের নিয়ন্ত্রনে কুইন্টাল প্রতি দর ২৬০ - ২৮০ টাকা। পরপর তিনদিন কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টি, কোথাও শিলা বৃষ্টি হওয়ায় আলু চাষীদের কপালে ভাঁজ। এখনেও ৫০ ভাগ অধিক আলু জমিতে মাটির তলায়। আলুর বস্তাও কালোবাজারি। ৮-১০ টাকার বস্তার দাম বেড়ে ২০-২২ টাকা। কৃষকরা সর্বশান্ত। কৃষকরা আলুর সরকারী দাম চেয়ে জেলার শালবনী ব্লকের পীড়াকাটা ও মেদিনীপুর সদর ব্লকের এনায়েতপুরে রাজ্য সড়কে আলু ঢেলে তুমুল বিক্ষোভ সহ অবরোধ করে।
প্রায় একমাস পার হতে চললো, মুখ্যমন্ত্রী সরকারী ভাবে ৯৫০ টাকা দরে আলু কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু আজ অবধি সরকারী ভাবে কোথায় আলু কেনা হচ্ছে কেউ জানেন না। এমনকি জেলার ব্লক গুলির কৃষিদপ্তর ও কিষান মান্ডির চত্বরে কৃষকরা হন্যে হয়ে ঘুরলেও মিলেনি উত্তর। আলু চাষীরা বলেন, "এই রাজ্য সরকার কৃষক বিরোধী সরকার। আজ প্রায় একমাস হতে গেলো ঘোষনা করেও কোথাও সরকারী ৯৫০ টাকা দরে আলু কেনা শুরু করলো না। কেবল নাম নথি ভুক্ত করায় মাঠের আলু মাঠেই পড়ে রয়েছে। ২০০৯ সালে আলুর ফলন ভালো হওয়ায় এবং দর না থাকায় বামফ্রন্ট সরকার তখন ৪০০ কোটি টাকা আলু জন্য বরাদ্দ করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
বর্তমানে কৃষকরা বিঘা প্রতি ৩৮-৪০ হাজার টাকা খরচ করে আলু চাষ করলেও দাম নেই। খরচের অর্ধেক দামও উঠছে না। ইতিমধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনায় ঋণের চাপে একজন আলু চাষী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। তৃণমূলের রাজত্বে আলুর গড়ে এ পর্যন্ত ১৩৪ জন কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। তা সত্বেও সরকার নির্বিকার। ফড়েদের নিয়ন্ত্রনে আলুর বাজার ছেড়ে দিয়ে নীরব থাকছে। প্রতিকারে জেলার দুই স্থানে সড়ক রাস্তায় আলু ঢেলে অবরোধ সহকারে বিক্ষোভ দেখায় প্রতিকার চেয়ে।
Comments :0