STORY — MAYURI MITRA — SE JAKHAN SHUKHAE — MUKTADHARA — 11 JANUARY 2026, 3rd YEAR

গল্প — ময়ূরী মিত্র — সে যখন শুকায়ে যায় — মুক্তধারা — ১১ জানুয়ারি ২০২৬, বর্ষ ৩

নতুনপাতা/মুক্তধারা

STORY  MAYURI MITRA  SE JAKHAN SHUKHAE  MUKTADHARA  11 JANUARY 2026 3rd YEAR

 

গল্প  


মুক্তধারা

  ----------------------------- 
  সে যখন শুকায়ে যায়
  ----------------------------- 

 

ময়ূরী মিত্র

পর্ব - দুই


গুরদোয়ারায় বসে অপর্ণার  সব  মনে পড়ছে  ৷ রোহিতের বাবা কাঁদছেন ৷ মা কাঁদছেন ৷ হাউহাউ করে দিদিমা কাঁদছেন ৷ অপর্ণা  কেবল ভাবছে  --আচ্ছা সবাই তো কেঁদে একসময় শুকিয়ে যাবে ! কিন্তু আমি ? আমি কী করব ? সে তো এখনো আমার কোলে তার নরম পাছা ঠেকিয়ে বসে আছে !  পালং থেকে পনির বেছে খাচ্ছে ৷ লাস্ট ঘিটুকু  সাপটে নিচ্ছে ৷  ভাবতে ভাবতে চোখ বুঁজে ফেলেছে অপর্ণা   ৷ হঠাৎ কলকল ৷ দেখে একটি বাচ্চা মেয়ে মাথার থেকেও বড় বেণী দুলিয়ে আসছে প্রার্থনা সভায় ৷ পাঞ্জাব প্রদেশের বধূটির মতো ওড়না মাথায় দিয়ে নেচে বেড়াচ্ছে ঘরময় ৷ কখনো  একঠেঙি  বকের মতো কিতকিত খেলছে ৷  কখনো হরিণের মতো সাঁ করে দৌড়ে বারান্দায় ৷ ছোটো শরীর --পরেছে বড়োদের কাটিঙের সালোয়ার কামিজ ৷ পায়ে পাঞ্জাবি নুপুর --বেশ ভরাট তার আওয়াজ ৷ নিজের মতোই বেখাপ্পা চুল বাঁধা দেখে ভারী মজা লাগছে অপর্ণার ৷চোখ ফেরাতে পারছে  না ৷ ফেরান যাচ্ছে না ৷
             
   
মেয়েটাকে  পাশটিতে নিয়ে শোকসভার ভোজ  খেল অপর্ণা  ৷ দুজনে মিলে জল ছেটাছেটি করে এঁটো থালাবাটি  ধুল ৷ মেয়েটা অপর্ণারটা  আর অপর্ণা  ওরটা ৷  আরো খানিক চটকে মটকে অপর্ণা এবার বেরল ৷ রাস্তা পার হতে যাচ্ছে !  ওপাশে সুহাসিনী ৷ 
           
উনি এখন কী করতে এসেছেন? আশ্চর্য মানুষ তো !
বাড়ি থেকে বেরবার সময় এত করে বলে এল --মা আমি স্কুল থেকে ডিরেক্ট চলে যাব ৷ একটা বাচ্চার  শোকসভায় যেতে তোমার ভালো লাগবে না মা ৷Trust me - তোমার আরো মন খারাপ হবে ৷  আমি বরং রোহিতের বাবা মাকে গিয়ে তোমার কথা বলব ৷ তবু এসেছেন সুহাসিনী ! সবেতে বাড়াবাড়ি এই  মহিলার ৷ রোহিতের বাপ মাকে দেখাতে এসেছেন বোধহয় , কত ভালোবাসেন রোহিতকে ! নিশ্চয় সাতকাহন করে এটাও বলবেন ....রোহিতের জন্য স্পেশাল টিফিন উনিই বানিয়ে দিতেন ! অপর্ণা নয় ৷ প্রতিবার বাড়ি থেকে আনা  টিফিনগুলো খাওয়ানোর পর রোহিতের মা হাতজোড় করে নমস্কার করে যেত ৷ কতবার বলেওছে --অপর্ণা মাদাম বলুন না....ছানার বড়ার রেসিপি ৷ আমি রোহিতকে বাড়িতে করে দেব ! আপনি রোজ রোজ খাবার বয়ে আনেন ! লজ্জা পাই ৷  প্রতিবারই চওড়া হেসে অপর্ণা বলত--কোনো কষ্ট হয় না ৷ সামান্য কটা ছানার বড়া ! তিলের নাড়ু ! এসবই তো আনি ! বাঙালি ঘরে এসব করতেই হয় ৷

অপর্ণা এই যে ! এসে গেছি আমি ! তুমি দাঁড়াও !
হেঁড়ে গলায় সুহাসিনী চেঁচাচ্ছেন ৷ বাসগুলো এই রাস্তায় স্পিডে দৌড়োয় ৷হাত দেখিয়ে সুহাসিনীকে থামাল অপর্ণা ৷ চলন্ত বাসগুলোর মধ্যে দিয়েই  দ্রুত এপারে এল ৷ এখুনি বুড়িটাকে থামাতে হবে ৷  সুহাসিনীর হাত ধরে বাড়ির দিকে টানতে লাগল ৷ শোক কিংবা সদ্য পাওয়া খুশির ভাগ কোনো কিছুই দেবে না সে সুহাসিনীকে  ৷ শাশুড়ির হাতে  বৌমার পাঁচটা আঙুল চেপে বসেছে ৷
                
----আহ ! হাতে লাগছে ৷

সমাপ্ত

Comments :0

Login to leave a comment