Pioneer House

চিটফান্ড কাণ্ডের বহুতলে গেরুয়া পতাকা! সম্পত্তির হাল-হকিকত নিয়ে প্রশ্ন

জেলা

চিটফান্ড কেলেঙ্কারির অভিযোগে একসময় তদন্তের কেন্দ্রে থাকা বহুতল এবার কি বিজেপির দলীয় কার্যালয় হতে চলেছে? ময়নাগুড়ি শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীনগরপাড়ায় জলপাইগুড়ি রোডের ধারে থাকা ‘পাইওনিয়ার হাউস’এ গেরুয়া পতাকা টাঙানোকে ঘিরে এই প্রশ্নই সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন জঙ্গলে ঢাকা পড়ে থাকা ভবন চত্বরে আর্থমুভার নামিয়ে শুরু হয়েছে সাফাইয়ের কাজ। একইসঙ্গে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের আনাগোনা। যদিও ভবনটিকে দলীয় কার্যালয় করার বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
সাধারণ মানুষের আমানতের টাকা তছরুপের অভিযোগে আলোচিত একটি সংস্থার সঙ্গে এই সম্পত্তির যোগ থাকার অভিযোগই এখন নতুন করে সামনে আনছে পুরনো প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ‘শিবংকর এগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেড’ প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকায় ভবনটি কিনেছিল। ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল সংস্থাটির বিরুদ্ধে। সারদা-কাণ্ডের পর সংস্থাটির কার্যকলাপ নিয়ে সিবিআই তদন্ত শুরু করে বলে স্থানীয়দের দাবি। সেই তদন্তের সূত্রেই ‘পাইওনিয়ার হাউস’ আলোচনায় আসে।
প্রশ্ন উঠছে, সেই বিতর্কিত সম্পত্তির বর্তমান মালিকানা ও ব্যবহার সম্পর্কে প্রশাসনের অবস্থান কী? চিটফান্ড কাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর প্রশ্ন যখন এখনও অমীমাংসিত, তখন এমন একটি সম্পত্তিতে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিজেপির বর্তমান কার্যালয়ের জমি নিয়ে বিতর্ক। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলের বর্তমান অফিসটি পূর্ত দপ্তরের জমিতে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে নতুন জায়গার প্রয়োজনেই কি চিটফান্ড-কাণ্ডে বিতর্কিত এই বহুতল বেছে নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
সিপিআই(এম) ময়নাগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক অপূর্ব রায় বলেন, ‘‘এই ভবনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের টাকা লুটের অভিযোগের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। সরকারের উচিত সম্পত্তির মালিকানা ও বর্তমান ব্যবহার নিয়ে তদন্ত করা। ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এমন জায়গাকে রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা হলে মানুষ তা মেনে নেবে না।’’

Comments :0

Login to leave a comment