Salim on SIR

মানুষকে ভয় পায়, তাই নাম বাদ দেয় ভোটার তালিকা থেকে: সেলিম

রাজ্য জেলা

বহরমপুরে সিপিআই(এম)’র সাধারণ সভায় মহম্মদ সেলিম।

আরএসএস-র বই থেকে পাতা তুলে নিয়ে এসআইআর করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রান্তিক, গরিব মানুষের নাম। সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা বামপন্থীরা বারবারই  রাজ্যে এই এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছি। এখন দায় এড়ালে চলবে না। এই অন্যায়ের দায় নিতে হবে। 
এসআইআর এবং সুপ্রিম কোর্টে দায়ের মামলা প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক ও পলিট ব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। মঙ্গলবার বহররমপুরে সিপিআই(এম) মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সাংগঠনিক কর্মসূচিতে যেগ দেন সেলিম। সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিপিআই(এম)’র জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা। 
সেলিম বলেন, এখন বেরিয়ে এসেছে যে নির্বাচন কমিশনের অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা না করে কাজ করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সুপ্রিম কোর্টে দায় এড়াচ্ছেন তিনি। দায় নিতে হবে। 
উল্লেখ্য, এদিনও সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশ কুমারের বিপক্ষে দায়ের মামলার শুনানি ছিল। পরবর্তী শুনানি ১৭ নভেম্বর। আদালতে কমিশনের দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেই এগিয়েছেন জ্ঞানশ কুমার। এদিকে কমিশনের অভ্যন্তরীণ বৈঠক এবং ফাইল নোট সংরক্ষিত করার আবেদন জানানো হয়েছে শুনানিতে। 
সেলিম বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কমিশনের সিইও ছিলেন মনোজ আগরওয়াল। ভোট মিটতেই তাঁকে মুখ্য সচিব করা হলো। আর মুখ্যমন্ত্রী এক বাবার সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে বলছেন যে তাঁর দয়াতেই জিতেছেন! 
সেলিম বলেন, এই বিজেপি এবং আরএসএস আর তাদের অনুগামীরা মানুষকে বলছিল ‘বাংলাদেশী’, ‘রোহিঙ্গা’ বলেছে। আজ দেখা যাচ্ছে ১৩ কোটি মানুষের নাম সারা দেশে বাদ পড়ার মুখে সারা দেশ উত্তাল। দিল্লি, মুম্বাই বা কলকাতা কেবল নয়। বিক্ষোভে শামিল অরুণাচল, লাদাখ। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা নেমেছেন। এবার বলছে দিল্লির চৌহদ্দির মধ্যে কোনও জমায়েত করা যাবে না। সভা করা যাবে না। 
সেলিম বলেন, ওরা আসলে মানুষকে ভয় পায়। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে মানুষ যখন প্রতিবাদে নামে ওরা তাকে ভয় পায়। ব্রাজিলে মানুষ রাস্তায় নেমে বামপন্থী প্রার্থী লুলাকে জয়ী করলেন। সার্বিয়ায় ছাত্ররা নেমে সরকার বদলেছে। দক্ষিণপন্থীরা মানুষকে ভয় পায় বলে মানুষের নাম বাদ দেয়। 
সেলিম বলেন, ধর্ম আর রাজনীতি আলাদা। ইজরায়েলেরও বহু মানুষ বলছেন যে ইহুদি ধর্ম আর বিদ্বেষী জায়নবাদ এক নয়। ভারতেও মানুষ বলবেন। হিন্দু ধর্ম আর ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতির ক্ষমতার দখলের হিন্দুত্ববাদ এক নয়। 
সেলিম বলেন, ধর্মপালন করেন মানুষ উপাসনা স্থলে বা বাড়িতে। সিপিআই(এম) দপ্তরের সামনে হনুমান চালিশা পাঠ করার দরকার পড়ে না। 
জামির মোল্লা বলেছেন, ধর্মের নামে মানুষকে বিভাজনের রাজনীতি চলছে একদিকে। আরেকদিকে মানুষের রায় লুট করা হচ্ছে। রেজিনগরে উপনির্বাচনে আমরা দেখেছি। তার জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের সময়ে মন্ত্রী হয়ে যা করেছেন এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ বলে তার দ্বিগুন করছেন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে। আমরা ভাঙনের সমস্যা, পরিযায়ী শ্রমিকের যন্ত্রণার মতো মানুষের জীবিন জীবিকার বিষয় নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলছি।

Comments :0

Login to leave a comment