পুরুলিয়া জেলার নিতুরিয়া ব্লকের ইনানপুর, বিন্দুইডি, লয়াবাদী, হাড়মাড্ডি প্রভৃতি বেশ কিছু গ্রামের মানুষের মধ্যে সিলিকোসিস রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ইতিমধ্যে সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটনার ঘটেছে। পুরুলিয়া জেলায় সিলিকোসিস আক্রান্তদের সনাক্তকরণ, দ্রুত সরকারি ভাতা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দূষণকারী কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবিতে সোমবার জেলাশাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি দিলো ‘কো-অর্ডিনেশন কমিটি অ্যাগেইন্সট সিলিকোসিস অ্যান্ড আদার অকুপেশনাল ডিজিজেস’ কমিটি। এদিন তারা ইনানপুর এবং দুরমুট গ্রামে গিয়ে আক্রান্ত মানুষ জনের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি যে সমস্ত পরিবারের সদস্যরা সিলিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন কর্মসূচিতে আক্রান্ত বেশ কয়েকজন রোগী এবং মৃতের পরিবারের লোকজন যোগ দিয়েছিলেন।
পুরুলিয়ার নিতুরিয়া ব্লকের ইনানপুর ও বিন্দুইডি গ্রামে পেশাগত এই মারণরোগের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি আয়োজিত এক স্বাস্থ্য ক্যাম্পে ২১ জন সিলিকোসিস সন্দেহভাজনের মধ্যে ১৬ জনের দেহেই সিলিকোসিস রোগ সনাক্ত করা হয়েছে এবং এটা সরকারি রিপোর্ট। অভিযোগ, স্থানীয় কারখানা মালিকদের অসহযোগিতা এবং ভয় ভীতি ও বাধার কারণেই অনেক অসুস্থ শ্রমিক সনাক্তকরণ শিবিরে অংশ নিতে পারছেন না। কমিটির পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট অভিযোগ তোলা হয়েছে, নিতুরিয়ার গোপালগঞ্জে অবস্থিত ‘ওমেগা মিনারেলস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের এক র্যা মিং মাস কারখানার বিরুদ্ধে। এই কারখানার থেকে সিলিকা, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ,কার্বন মনোক্সাইড বেশি পরিমাণে বাতাসে মিশে যাচ্ছে। পুকুরের জল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এলাকার ইকোসিস্টেম বিঘ্নিত হচ্ছে। চামড়ায় কালো দাগ হয়ে যাচ্ছে। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ফসফুসের মধ্যে সিলিকা ডাস্ট ঢুকছে। যার ফলে শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। সাম্প্রতিক ক্যাম্পের পূর্বেই এই কারখানায় অন্তত ১৮ জন শ্রমিকের সিলিকোসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই কারখানার বিরুদ্ধে অবিলম্বেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
Silicosis
সিলিকোসিস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে পুরুলিয়ার নিতুরিয়া ব্লকে
সিলিকোসিস আক্রান্ত এবং মৃতের পরিবার
×
Comments :0