medinipur

সরকারী পোল্ট্রি থেকে কয়েক কোটি টাকার ডিম পাচার, উদ্বেগ মেদিনীপুরে

জেলা

সরকারী পোল্ট্রি থেকে গত ৫ মাসে কয়েক কোটি টাকার উপর ডিম পাচার ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে শোরগোল। কয়লা পাচার, বালি পাচার, গাছ পাচার, পাথর, মাটি পাচার করতো তৃণমূলী সিন্ডিকেট বাহিনী। আজ তাঁরাই পরিবর্তনের পর বর্তমান শাসকদলের সম্পদ হয়ে জেলা জুড়ে তান্ডব, লুঠ, পার্টি দপ্তর ভাঙচুর আগুন লাগানোর কাজ করে চলেছে। সেই ঘটনার মধ্যেই উঠে এলো ডিম পাচারের ঘটনা। এই ঘটনায় জড়িত মাথা সহ প্রসাশন ও সিন্ডিকেট বাহিনী বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জরালো দাবিতে সরব হয়েছেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক বিজয় পাল, কংগ্রেসের জেলা সভাপতি চিরঞ্জীব ভৌমিক প্রমুখ।
ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের গাইঘাটা মৌজায় সরকারী পোল্ট্রি ফার্ম থেকে। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা এই খামারে আড়াই লক্ষ মুরগি রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২ লক্ষ ডিম উদপাদিত হয়। সেই ডিম গত ৫ মাস ধরে প্রতিদিন ২-৩ গাড়ি পাচার হওয়ার ঘটনা উঠে আসে। খড়্গপুরের চৌরঙ্গিতে এমন ডিম ভর্তি গাড়ি ধরা পরে গত বুধবার রাতে। চালান বিহীন ডিম ভর্তি লরিতে পাচার হওয়ার সময় ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। শালবনী ফার্মের এই ডিম দক্ষিন ২৪ পরগনার ভাঙড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির চালককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় গত ৫ মাস ধরে সে লরির চালক হিসাবে কাজ করে আসছে।
প্রসাশন সূত্রে জানা যায়, রাজ্যে ডিম উৎপাদনে পশ্চিম মেদিনীপুরই প্রথম। জেলায় প্রতিদিন গড়ে ৫৪-৫৫ লক্ষ ডিম উৎপাদন হয়। পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নিগমের অধীন শালবনীর ওই পোল্ট্রি ফার্মে প্রতিদিন প্রায় ৩ লক্ষ ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে দুই লক্ষ ডিম একাধিক গাড়িতে করে বাইরে যায়। শালবনীর ফার্ম থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ডিম ভর্তি একটি ট্রাক। গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালত তার জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে, চালক যে আসল অপরাধী নয়, মানছেন তদন্তকারী অফিসাররাও। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, "আসল অপরাধীদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছি আমরা।' 
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সর্ষের মধ্যেই ভূত রয়েছে! জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, "ওই দপ্তরের আধিকারিকদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে।"
তবে এই ডিম পাচারের এই কারবার ঠিক কবে থেকে চলছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মনে হচ্ছে, এর আগেও একইভাবে ডিম পাচার হয়েছে। এবারই প্রথম ধরা পড়ল। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।
সরকারি সম্পদ লুটের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন জেলার বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূলের দেখানো পথেই এগিয়ে চলেছে বিজেপি। দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই লুটের কারবার।

Comments :0

Login to leave a comment